ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

চালক নাকি হেলপার? বাসডুবির রহস্যে নতুন মোড়

২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:২৩:১২
চালক নাকি হেলপার? বাসডুবির রহস্যে নতুন মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসডুবির ঘটনায় কে চালকের আসনে ছিলেন—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে মালিকপক্ষের দাবির মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া একাধিক যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, চালকের সহকারী (হেলপার) হঠাৎ বাসটি চালু করায় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। তবে বাস মালিকপক্ষের দাবি, দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে ছিলেন চালক নিজেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসটির চালক আরমান আলী (৩১), বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায়। দুর্ঘটনায় তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সহকারী আলিম এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বাসের যাত্রী রাজীব সরদার জানান, বাসটি পন্টুনে ফেরির অপেক্ষায় ছিল। এ সময় কয়েকজন যাত্রী চা খেতে নামেন এবং তিনি নিজেও চালককে বাস থেকে নামতে দেখেন। পরে একটি ফেরি আনলোড করার পর হেলপার বাসটি স্টার্ট দেন। সঙ্গে সঙ্গে বাসটি ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, “আমি পেছনের আসনে ছিলাম। বাস ডুবে যাওয়ার পর জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করি। তখন কয়েকজন আমার ওপর উঠে পড়ে। কীভাবে বের হয়েছি, তা মনে নেই।”

আরেক যাত্রী জানান, বাসটি পন্টুনে দাঁড়িয়ে ছিল এবং ইঞ্জিন চালু অবস্থায় ছিল। হঠাৎ সেটি সামনে এগিয়ে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশাচালক শামসুদ্দিন বলেন, “ফেরি ভেড়ার পর হেলপার চালকের আসনে বসে বাসটি চালু করেন। এরপরই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যায়।”

অন্যদিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের মালিক আক্তারুজ্জামান হাসান দাবি করেন, একটি ফেরি জোরে পন্টুনে ধাক্কা দেওয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। তার মতে, বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে সিরিয়াল মেইনটেইন করলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, বাসটির ফিটনেস ও রুট পারমিট বৈধ ছিল এবং চালক আরমান আলীই তখন গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

রাজবাড়ী বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) মুহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ফিটনেস সনদ দেওয়া হয় এবং এর রুট পারমিটও বৈধ ছিল।

তবে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, চালক না সহকারী—দুর্ঘটনার সময় কে স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে