ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

শেষ কথাটাই সত্যি হলো—‘আর দেখা হবে না’

২০২৬ মার্চ ২৭ ১১:২০:১৫
শেষ কথাটাই সত্যি হলো—‘আর দেখা হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে হারালেন নুরুজ্জামান। বেঁচে গেছেন তিনি ও তার চার বছরের মেয়ে নওয়ারা আক্তার—কিন্তু মুহূর্তেই ভেঙে গেছে তার সাজানো সংসার।

বুধবার দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে বাস থেকে নেমেছিলেন নুরুজ্জামান। সঙ্গে ছিল মেয়ে নওয়ারা। চিপস কিনতে গিয়ে বাসেই রেখে গিয়েছিলেন স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও সাত মাসের ছেলে আরশানকে।

হঠাৎ চোখের সামনে তিনি দেখেন, বাসটি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। ছুটে যেতে গিয়েও থেমে যান—কিছু করার ছিল না। কয়েক মুহূর্তেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামে নুরুজ্জামানের বাড়ি। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া।

নুরুজ্জামানের বাবা কামরুজ্জামান জানান, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ ঢাকার সাভার ও মিরপুরের সিআরপি হাসপাতালে চাকরি করতেন। ঈদের কয়েকদিন আগে সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তারা। বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে বাসে রওনা দেন।

নাতি-নাতনিদের বিদায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় ছেলের ফোন পান কামরুজ্জামান। ফোনের ওপাশ থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরুজ্জামান বলেন,“আব্বা, আমার সব শেষ। আপনার বৌমা আর আরশান পদ্মায় তলিয়ে গেছে।”

পরে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর বুধবার রাত ৩টার দিকে বাসের ভেতর থেকেই উদ্ধার করা হয় আয়েশা আক্তার ও ছোট্ট আরশানের মরদেহ।

স্বজনেরা জানান, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে নুরুজ্জামান গ্রামের বাড়িতে ফিরে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করতেন। তার ভাতিজা মোবাস্বির আহমেদ বলেন, চাচা-চাচি দুজনেই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতেন। তবে অসুস্থতার কারণে এবার আর সেই আয়োজন করা হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় নুরুজ্জামান বলেছিলেন, “আগামীকাল চলে যাচ্ছি, আর দেখা হবে না”—সেই কথাই যেন সত্যি হয়ে গেল।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে