ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

যেভাবে রাষ্ট্রপতির ৫০ ঘণ্টার সংসদীয় আলোচনায় ব্যয় ৮১ কোটি!

২০২৬ মার্চ ১৫ ১৩:২৪:৩৮
যেভাবে রাষ্ট্রপতির ৫০ ঘণ্টার সংসদীয় আলোচনায় ব্যয় ৮১ কোটি!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর দেওয়া ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ এই আলোচনায় সংসদের ব্যয় হতে পারে প্রায় ৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এই ব্যয়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিল-ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২টি অধিবেশনের (জানুয়ারি ২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২৩) পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি মিনিটে গড়ে ব্যয় হয় প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। দ্বাদশ সংসদের ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও প্রকাশ হয়নি।

একাদশ সংসদের এই হিসাব ধরলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনায় মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য যদি ১২ মিনিট করে বক্তব্য দেন, তবে তিনি গড়ে প্রায় ১২০০ শব্দ বলার সুযোগ পাবেন। তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যে ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে আপত্তি উঠেছে, তার ওপর এত দীর্ঘ আলোচনা ও বিপুল ব্যয় কতটা যৌক্তিক।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি অতীতে ফ্যাসিস্টদের দোসর ছিলেন। তাই উদ্বোধনী অধিবেশনে তার ভাষণের সময় তারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রেওয়াজের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুল্লাহ আল আমিন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। তবে আলোচনায় অংশ নিলে তারা ফ্যাসিবাদের সব অপকর্ম তুলে ধরবেন।

সংবিধানের ৭৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নিয়ে সরকারের নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন খাতের সাফল্য-ব্যর্থতা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাকে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন। পরে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শেষ করেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে