ঢাকা, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

যেভাবে দেশে আনা হবে হাদি হত্যার ২ আসামিকে

২০২৬ মার্চ ০৯ ১০:৫৪:৫৭
যেভাবে দেশে আনা হবে হাদি হত্যার ২ আসামিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীরকে। রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল।

গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই আসামিকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।

এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “ফেরানোর বিষয়টি দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। তারা সিদ্ধান্ত নেবে কবে ও কীভাবে আসামিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” তিনি আরও জানান, যেহেতু হাদি হত্যাকাণ্ড একটি আলোচিত বিষয়, তাই ভারতও আসামি ফেরত দিতে সমর্থ হতে পারে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখনও অফিসিয়ালি কোনো কিছু নিশ্চিত করেনি। তবে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

ভারত থেকে আসামি ফেরানোর মূল প্রক্রিয়া ২০১৩ সালের বহিঃসমর্পণ চুক্তি-র মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। চুক্তির আওতায় দুই দেশ তাদের সীমান্তে আত্মগোপন করা অপরাধী বা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে একে অপরের কাছে হস্তান্তর করতে পারে। ২০১৬ সালে কিছু সংশোধনী আনা হয়, যা আসামি হস্তান্তরকে আরও সহজ করেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে, কোনো অভিযুক্তকে ফেরাতে প্রথমে সরকারকে কূটনৈতিক বার্তা বা নোট ভার্বাল পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাতে হয়। ২০১৬ সালের সংশোধনীর অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসামি হস্তান্তরের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়। আগে যেমন জটিল প্রমাণের প্রয়োজন হত, এখন তা আর বাধ্যতামূলক নয়।

চুক্তির আওতায় কেবল সেইসব অপরাধীর ফেরত দেওয়া যায়, যার সাজা কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড। বিশেষ করে হত্যা, চাঁদাবাজি বা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। যদি অপরাধটি রাজনৈতিক চরিত্রের হয়, তবে ভারত প্রত্যর্পণে অসম্মতি জানাতে পারে। তবে খুন বা গুরুতর সহিংস অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে