ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

অভিযোগ থেকে মুখ খুললেন আসিফের সেই এপিএস 

২০২৬ মার্চ ০৭ ১৯:১৩:৪১
অভিযোগ থেকে মুখ খুললেন আসিফের সেই এপিএস 

নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর সাবেক সহকারী ও একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

মোয়াজ্জেম হোসেনকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া এবং পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন। পরে আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি ৩১১ কোটি টাকার তদবির বাণিজ্য, নিয়োগ-বদলি সিন্ডিকেট এবং টেন্ডারবাজি করে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

দুদক দীর্ঘ ১১ মাস অনুসন্ধান চালানোর পর কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দিয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজ ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, দুদকের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া তিনি নিষ্পত্তির সব ডকুমেন্টও সংযুক্ত করেছেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধানের পর দুদক প্রতিবেদন দিয়েছে এবং আমাকে সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। ‘দুর্নীতি ও তদবির-বাণিজ্য’ সংক্রান্ত অভিযোগে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় দুদক স্বসম্মানে আমাকে নিষ্পত্তিপত্র প্রদান করেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এপিএস হিসেবে যোগদানের সময় তাকে স্থায়ী চাকরি পেলে ছেড়ে দেবার শর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে এবং পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

মোয়াজ্জেম বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যার সূত্রপাত হয়। অনেকেই সুবিধা নিতে আসত, আমি অস্বীকার করলে শত্রু সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আমার ওপর ক্ষোভ জমে, কারণ সবাই সরাসরি আসিফ মাহমুদকে রিচ করতে পারত না।”

তিনি জানান, একটি ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের পেজ থেকে তার বিরুদ্ধে ৩১১ কোটি টাকার তদবির বাণিজ্য করার অভিযোগ করা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নকল করে প্রচারিত হয়। ফলে সামাজিক মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং তার পরিবারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।

মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, দুদকের অনুসন্ধানকালে তিনি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন, “অনেকে ভয় দেখিয়ে, জোরপূর্বক বা অর্থের লোভ দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আদায়ের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেউ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।”

নিজের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমি সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হই। সঠিক চিকিৎসা না পেলে পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে ভুয়া খবর ছাপানো হয় যে আমি দেশ ছাড়তে যাচ্ছি।”

শেষে তিনি উল্লেখ করেন, “দুদক দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আমাকে মুক্তি দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমার জন্য দোয়া করবেন যেন শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচতে পারি এবং কারো জীবনে এমন মিথ্যা অভিযোগ ও হেনস্তার ভার আর না আসে।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে