ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

রমজানে নারীর ইতিকাফের বিধি-বিধান 

২০২৬ মার্চ ০৭ ১৫:১২:৪৪
রমজানে নারীর ইতিকাফের বিধি-বিধান 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রমজানে আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি হলো ইতিকাফ। সাধারণত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া, যা মূলত পুরুষদের জন্য মসজিদকেন্দ্রিক একটি আমল। কোনো মহল্লা বা এলাকায় অন্তত একজন পুরুষ ইতিকাফ করলে পুরো এলাকার পক্ষ থেকে সুন্নত আদায় হয়ে যায়। আর কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১, আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪৪৪)

নারীরা কি ইতিকাফ করতে পারবেন?

ইতিকাফ শুধু পুরুষদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। শর্তসাপেক্ষে নারীরাও ইতিকাফ করতে পারেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে নিয়মিত ইতিকাফ করতেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ পালন করতেন। (আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৪৬)

তবে নারীদের জন্য ইতিকাফ সুন্নত নয়, বরং মোস্তাহাব। কারণ রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীগণ ইতিকাফের জন্য তাঁর অনুমতি গ্রহণ করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, নারীদের ক্ষেত্রে স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া জরুরি। (আলবানি, কিয়ামু রমজান: ২৯)

কখন নারীর ইতিকাফ না করাই উত্তম

যদি কোনো নারীর স্বামী গুরুতর অসুস্থ হন এবং তাঁর সেবাযত্ন প্রয়োজন হয়, তাহলে সে অবস্থায় ইতিকাফে বসা উচিত নয়। একইভাবে ছোট সন্তান থাকলে এবং তাদের দেখাশোনার জন্য অন্য কেউ না থাকলে নারীর ইতিকাফ করা অনুচিত বলে মনে করা হয়। (আহকামে রমজান ও জাকাত: ৬৪)

তবে সব পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর উচিত নয় স্ত্রীকে ইতিকাফে বাধা দেওয়া বা এই সওয়াব থেকে বঞ্চিত করা। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৭৪)

নারীরা কোথায় ইতিকাফ করবেন

নারীরা সাধারণত মসজিদে নয়, বরং নিজের ঘরে ইতিকাফ করেন। ঘরের যে জায়গায় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়, সেই নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করা উত্তম। যদি আগে থেকে নির্দিষ্ট জায়গা না থাকে, তাহলে একটি স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ইতিকাফে বসতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২১১)

ইতিকাফ অবস্থায় যা করা যাবে

ইতিকাফে থাকা অবস্থায় নারী নির্ধারিত স্থানেই ইবাদত করবেন। প্রয়োজন ছাড়া সেই স্থান ত্যাগ করা যাবে না। তবে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কেউ না থাকলে খাবার আনার জন্য অল্প সময়ের জন্য বের হওয়া জায়েজ। খাবার ও পানাহারও নির্ধারিত স্থানেই করা উত্তম। (হেদায়া: ১/২৩০)

এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া বা প্রয়োজন হলে কারও সঙ্গে কথা বলা যাবে। রান্নার লোক না থাকলে নির্ধারিত স্থানে বসে রান্না করাও অনুমোদিত। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ১৫/৩৩৪)

ইতিকাফ অবস্থায় যা করা যাবে না

ইতিকাফ চলাকালে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে স্বামী চাইলে পাশে থাকতে পারেন। (ফাতাওয়ায়ে শামি: ৩/৪৪২)

এ ছাড়া শিরক বা কুফরিতে লিপ্ত হওয়া, অজ্ঞান বা পাগল হয়ে যাওয়া, মাতাল হওয়া, ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, সন্তান প্রসব বা গর্ভপাত হলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়। (আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫০২)

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে