ঢাকা, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ব্যাংক এজেন্ট অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা দাবি

২০২৬ মার্চ ০৬ ১৯:৩২:৫৯
ব্যাংক এজেন্ট অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এক এজেন্টকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন তাহিরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামের প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ছেলে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, সোনাপুর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে মিলন মিয়া এবং নুরপুর গ্রামের সুজাফর মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নুরপুর গ্রাম থেকে বাদাঘাট বাজারে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট শাখায় যাওয়ার পথে দেলোয়ার হোসেনকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যান আফতাব উদ্দিন ও তার সহযোগীরা। পরে বাদাঘাট বাজারে আফতাবের নিজস্ব ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। সেখানে ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথা ও ডান হাতে আঘাত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদারসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দেলোয়ারকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন জানান, আফতাব উদ্দিন তার এক ভাগ্নের মাধ্যমে আগে ৬০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা পরিশোধ করেননি। পরে ব্যবসার জন্য আরও ৮ লাখ টাকা ধার চেয়ে বিভিন্ন সময় চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধের মীমাংসার জন্য দেলোয়ারকে তার অফিসে ডেকে আনা হয়েছিল। মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দেলোয়ার নিজেই নাটক সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশংকর পাল জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া আফতাব উদ্দিন ও তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে আরও একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে