ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ভোট ও গণভোট নিয়ে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এক নজরে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৯:১৮:৪৭
ভোট ও গণভোট নিয়ে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এক নজরে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দুইটি ভোট দিতে হবে – একটি হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি জুলাই মাসে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট। এবারের ভোটের সময়ও কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে; সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হত, কিন্তু এবার শুরু হয়েছে সকাল ৭:৩০ এবং শেষ হবে বিকেল ৪:৩০, অর্থাৎ এক ঘণ্টা বেশি সময় ভোটারদের জন্য রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার সংখ্যা রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার এবং হিজড়া ভোটার ১,১২০ জন। ভোটের আগের মুহূর্তে গুগল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটকেন্দ্র, ভোটার নম্বর, ভোটার স্লিপ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কিত প্রশ্নের সন্ধান দেখা যাচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল রয়েছে। নতুন দলে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি, যা এবারই প্রথম ভোটে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে অংশ নিচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এবং কিছু ছোট দল এবারের ভোটে অংশ নিচ্ছে না।

ভোটাররা এখনো তাদের ভোটকেন্দ্র জানার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করছেন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, Smart Election Management BD অ্যাপ, হটলাইন (১০৫) এবং এসএমএস সেবা ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার নম্বর খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য হলো ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং জন্ম তারিখ। এই তথ্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রের নাম, অবস্থান এবং ভোটার নম্বর সহজেই জানা যাবে।

ভোটার স্লিপ, যা ভোটারের নাম, নম্বর এবং ভোটকেন্দ্র সংবলিত একটি কাগজ, এবারের নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রে বিতরণ করা হয়নি। এটি সরকারি কোনো স্লিপ নয়, তবে পূর্ববর্তী নির্বাচনে প্রার্থীর বা স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হতো।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার এবং ছবি তোলা অনুমোদিত, তবে গোপন কক্ষে মোবাইল নেওয়া বা ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া, যারা নিকাব বা মুখ ঢেকে ভোট দিতে আসবেন তাদের মুখ খুলতে হবে যাতে ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা যায়। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করলে ভোটারকে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস জেল ও জরিমানা হতে পারে।

নির্বাচনকালে যানবাহন চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচল ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক এবং লঞ্চও ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে না। ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে জরুরি সেবা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্বাস্থ্যসেবা এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের জন্য।

বাচ্চাদের ভোটকক্ষে নিয়ে যাওয়ার নিয়মও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যদি সন্তান ভোটের প্রতীক বোঝার মতো না হয়, তবে মা সন্তানকে নিয়ে গোপন কক্ষে যেতে পারবেন। তবে যদি সন্তান যথেষ্ট বয়সী হয়, তাকে বাইরে রেখে ভোটারকে গোপন কক্ষে ঢুকতে হবে।

সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলা হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা-কালো, আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি। ভোটাররা উভয় ব্যালটে সিল দেওয়ার পরে একই বাক্সে ফেলে দিবেন।

ভোটের ফলাফল প্রকাশে সময় লাগতে পারে, কারণ এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে গণনা করা হবে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল সাধারণত শুক্রবার দুপুর বা বিকেলে আসতে পারে, চূড়ান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের জন্য শনিবার বা রবিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নির্বাচিত সদস্যরা তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করবেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার শপথ করাবেন রাষ্ট্রপতি-মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যেহেতু নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকবে না। শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা বেশি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে।

নাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে