ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যুক্তরাষ্ট্রে ৮৫ শতাংশ রফতানি পণ্যে শূন্য শুল্ক

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ২১:১৪:০৮
যুক্তরাষ্ট্রে ৮৫ শতাংশ রফতানি পণ্যে শূন্য শুল্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (ART) ফলে এখন থেকে বাংলাদেশের প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্যই শূন্য শুল্কে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, মার্কিন বাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রথম পর্যায়ে এই বাজারে শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত সামগ্রিক শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তনটি রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

চুক্তির সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো তৈরি পোশাক খাত। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির সিংহভাগই আসে এই খাত থেকে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত গার্মেন্টস পণ্যগুলো শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় সরাসরি মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। বর্তমানে দেশের মোট তুলার চাহিদার মাত্র ২ শতাংশ দেশীয়ভাবে মেটানো হয়; বাকি ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর। তাই মার্কিন তুলা ব্যবহারের শর্তে এই সুবিধা গ্রহণ করা হলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও বহুগুণ বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে সরকার বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কার ও আমদানি উদারীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং মেটাল স্ক্র্যাপ আমদানির বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া চুক্তিতে একটি সুরক্ষা শর্ত বা ‘সেফগার্ড ক্লজ’ রাখা হয়েছে, যার ফলে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে বাংলাদেশ উপযুক্ত নোটিশের মাধ্যমে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আরও একটি সুখবর দেন। তিনি জানান, মূল চুক্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিস’ এর আওতায় আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্যকে ডিউটি-ফ্রি সুবিধা দিয়েছে। এই তালিকায় প্লাস্টিক পণ্য, প্লাইউড বোর্ড ও উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতির পাশাপাশি ওষুধ শিল্প বা ফার্মাসিউটিক্যালস খাত সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শতাধিক দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাতে বাংলাদেশের ওপরও ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্কের খড়গ নেমে এসেছিল। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার টানা ৯ মাস নিবিড় আলোচনা চালিয়ে গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই সফল বাণিজ্য চুক্তিটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে