ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের সুখবর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৮:৫৭:১৯
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের সুখবর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এই ক্ষতিপূরণ কোন প্রক্রিয়ায় বা কী মডেলে দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে এবং বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান। ব্যাংকগুলো একীভূত করার সময় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সরকার এখন সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় ৪২ হাজার কোটি টাকার জোগানসহ আনুষঙ্গিক টেকনিক্যাল বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বেশ কারিগরি ও জটিল বলে মন্তব্য করেছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর নেট অ্যাসেট ভ্যালু নেতিবাচক হয়ে পড়ায় তাত্ত্বিকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের দায় থেকে যায়। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারের সংকেত দেখে শেয়ার কিনেছেন—এই মানবিক ও যৌক্তিক দিকটি বিবেচনা করে তাদের কতোটুকু সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। ব্যাংকের আর্থিক দুরবস্থার পুরো বোঝা একা বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না বলে তিনি মনে করেন।

ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে উপদেষ্টা জানান, এর জন্য একটি নির্দিষ্ট মডেল তৈরি করা হচ্ছে যা পরবর্তী অর্থমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেন। উদাহরণস্বরূপ, বড় অঙ্কের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আংশিক শেয়ার প্রদান এবং বাকি অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিখুঁত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে যাতে বিনিয়োগকারীদের ওপর থাকা আর্থিক বোঝার চাপ কমানো সম্ভব হয়।

ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কেবল একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বাজারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য এবং এ লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

টেকসই অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়া অসম্ভব। চলমান এই সংস্কার কার্যক্রমগুলো পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিলে দেশের অর্থবছর ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে এবং অর্থনীতিতে পূর্ণ স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে