ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

জানুন ভোট দেওয়ার বিস্তারিত নিয়মকানুন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১০:০৪:৩২
জানুন ভোট দেওয়ার বিস্তারিত নিয়মকানুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা শেষে নির্বাচনকে ঘিরে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলে আশা করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

এখন ভোটারদের দায়িত্ব সঠিকভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা। ভোট দিতে যাওয়ার আগে ও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা জরুরি—কীভাবে ভোট দেবেন, কী কী তথ্য প্রয়োজন, ব্যালট কীভাবে ভাঁজ করবেন এবং কোন ব্যালট বাক্সে ফেলবেন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে যা জানতে হবে

১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট দেওয়ার আগে আপনার সঠিক ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জানা থাকলে সময় বাঁচবে এবং বিভ্রান্তি এড়ানো যাবে।

এ তথ্য জানতে নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটকেন্দ্র, ভোটার নম্বর ও ক্রমিক নম্বর জানা যাবে। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে।

এসএমএসের মাধ্যমেও তথ্য জানা যাবে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস এবং ভোটকেন্দ্রে থাকা ভোটার তালিকা থেকেও এসব তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

ভোট দিতে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা ভালো, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। ভোটার তালিকায় নাম ও ছবি থাকলে এবং পোলিং অফিসার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে ভোট দেওয়া যাবে।

মনে রাখতে হবে, কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রথমে পোলিং অফিসার ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর যাচাই করবেন। সব ঠিক থাকলে ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে।

এরপর প্রিজাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন—একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। ব্যালট পেপারের পেছনে অফিসিয়াল সিল ও প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে নিতে হবে।

ব্যালট নিয়ে নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্টভাবে সিল দিতে হবে। গণভোটের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যালটে হ্যাঁ বা না–তে সিল দিতে হবে।

ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপার এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকে না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বি ভাঁজ করাই নিরাপদ।

ভাঁজ করা ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে দ্রুত ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।

নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভোটগ্রহণ হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে—কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে। ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল তথ্য ও প্রশাসনিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, ভোট দেওয়ার জন্য নয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন, এর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

সারা দেশে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

নাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে