ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

পোশাকের মন্দায় হোঁচট খাচ্ছে রপ্তানি: লক্ষ্য থেকে দূরে বাংলাদেশ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৬:১১:১৪
পোশাকের মন্দায় হোঁচট খাচ্ছে রপ্তানি: লক্ষ্য থেকে দূরে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের চিত্রে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের আয় ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় অন্যান্য কিছু পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক আয়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এটি মূলত রপ্তানি বাণিজ্যে একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিনির্ভরশীলতার নেতিবাচক দিকটিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মোট রপ্তানি হয়েছে ২৮.৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৯৩ শতাংশ কম। তবে ইতিবাচক দিক হলো, ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় ১১.২২ শতাংশ বেড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যেখানে গত সাত মাসে আয় ২.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ সময় পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ২২.৯৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় খাতের রপ্তানিই কমেছে। তবে তৈরি পোশাকের এই মন্দা পরিস্থিতির বিপরীতে প্রকৌশল পণ্য, চামড়া, পাট এবং হোম টেক্সটাইলের মতো অপ্রচলিত খাতের পণ্যগুলোতে মাঝারি ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রকৌশল পণ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যার পেছনে বাইসাইকেল ও ইলেকট্রনিক পণ্যের বড় ভূমিকা রয়েছে। চামড়াজাত পণ্যে ৫.৭ শতাংশ এবং পাটজাত পণ্যে ২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও পোশাক খাতের ঘাটতি পূরণ করতে তা যথেষ্ট ছিল না।

রপ্তানি আয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় সংকটকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিকেএমইএ-র মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে সে দেশের ক্রেতাদের ব্যয় বাড়ছে, ফলে তারা অর্ডারের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ভারত ও চীন মার্কিন শুল্কের মুখে পড়ে ইউরোপের বাজারে বেশি মনোযোগী হওয়ায় সেখানেও বাংলাদেশ তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, দেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় অনেক বড় বিদেশি ক্রেতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে গত সাত মাসের হিসাবে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ টানা ছয় মাস ধরে রপ্তানি আয়ে পতনের মুখোমুখি হচ্ছে, যা নিকট অতীতে কেবল ২০২০ সালের করোনাকালীন লকডাউনের সময় দেখা গিয়েছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৪.৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কম। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে চাহিদার যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তবে রপ্তানিকারকরা আশা করছেন যে, এপ্রিলের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম, কারণ বিদেশি ক্রেতারা সাধারণত নির্বাচনের পরবর্তী স্থিতিশীলতা দেখে নতুন অর্ডার প্রদান করে থাকেন।

বাজারভিত্তিক রপ্তানি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জানুয়ারিতে জার্মানি, ফ্রান্স বা জাপানের মতো দেশে রপ্তানি কমলেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ভারতের মতো বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে ভারতে রপ্তানি বেড়েছে ১৯ শতাংশের বেশি। গত ডিসেম্বরে ভারতে ১২৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠানো হলেও জানুয়ারিতে তা বেড়ে ১৬৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও সামগ্রিক সাত মাসের হিসাবে ভারতের বাজারে রপ্তানি এখনো প্রায় ৫ শতাংশ পিছিয়ে আছে। মূলত বিশ্ববাজারের এই মিশ্র প্রবণতা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতার চ্যালেঞ্জগুলোই এখন রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে