ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

৩৫তম বিসিএসে কোটা জালিয়াতি: আদালতের কঠোর বার্তা

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১৫:৪৩:৫৮
৩৫তম বিসিএসে কোটা জালিয়াতি: আদালতের কঠোর বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা পরিচয় দিয়ে কোটা সুবিধায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি আদালতকে জানান, আসামি মো. কামাল হোসেন গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ওইদিন আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা এবং ডিএনএ পরীক্ষা করানোর শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং ডিএনএ প্রতিবেদন দাখিলের দিন পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

তবে আসামি দুই দফায় জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করায় তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও সরকারি চাকরি লাভসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে নিজের প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মাতা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে পরিচয় দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি লাভ করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, মো. কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নকালে পিতার নাম হিসেবে তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেন।

পরবর্তীতে একই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা চাচা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে