ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সঞ্চয়পত্র শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ, বন্ড মার্কেট চাঙ্গা করার ঘোষণা

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ২৩:৩৬:৩৭
সঞ্চয়পত্র শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ, বন্ড মার্কেট চাঙ্গা করার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ড মার্কেটের দিকে ধাবিত করতে বড় ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বন্ড মার্কেটের চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এখন থেকে বড় কোনো গ্রাহককে ব্যাংকগুলোর একক ঋণসীমা (সিঙ্গেল বরোয়ার লিমিট) অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরণের তদবির বা অন্যায্য দাবি এক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

গভর্নর উল্লেখ করেন, বর্তমানে কোনো ব্যাংক তার মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের বেশি একক গ্রাহককে ঋণ দিতে পারে না, যার মধ্যে ফান্ডেড ঋণ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ। তিনি মনে করেন, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক থেকে আলাদা করে বন্ড মার্কেটের দিকে নিয়ে আসা জরুরি। বৈশ্বিক অর্থনীতির নিয়মে বন্ড এবং শেয়ারবাজার প্রথম সারিতে থাকলেও বাংলাদেশে মানি মার্কেট বা ব্যাংকিং খাতের ওপর অতি-নির্ভরতা রয়েছে, যা একটি বড় অসংগতি। এই ধারায় পরিবর্তন আনতে হলে সরকারকে আগে এগিয়ে এসে বন্ড মার্কেটকে গতিশীল করতে হবে।

বর্তমানে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল হচ্ছে কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। গভর্নর প্রস্তাব করেন যে, দেশে থাকা ৫-৬ লাখ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্রের বিশাল বাজারকে সহজেই সেকেন্ডারি মার্কেট বা শেয়ারবাজারে লেনদেনযোগ্য করা সম্ভব। এটি করতে পারলে বন্ড মার্কেটের আকার রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই বিশ্বাস ফেরাতে হবে যে, প্রতিষ্ঠানগুলো যথাসময়ে লভ্যাংশসহ অর্থ ফেরত দেবে এবং ব্যর্থ হলে তাদের খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে।

সেমিনারে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজলভ্য ঋণ পাওয়ার কারণেই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে আসতে চায় না, যা খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, ট্রেজারি বন্ড সেকেন্ডারি মার্কেটে আনার ক্ষেত্রে কিছু কর সংক্রান্ত সফটওয়্যারগত সমস্যা থাকলেও তা সমাধানে কাজ চলছে। এমনকি সঞ্চয়পত্রের ওপর থেকে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা বা সিলিং তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এই উদ্যোগগুলো সফল হলে দেশের আর্থিক খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্ড মার্কেট শক্তিশালী হলে বড় করপোরেটদের ঋণের বোঝা ব্যাংক থেকে কমে আসবে এবং বাজারে ক্যাশ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে বর্তমান অর্থবছরের বিনিয়োগ পরিবেশে যেমন স্থিতিশীলতা আসবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের গভীরতাও বৃদ্ধি পাবে বলে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, বিএসইসি কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন এবং এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে