ঢাকা, রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ভোটের মাঠে নিজেদের লড়াই: বিদ্রোহের চাপে টালমাটাল বিএনপি

২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ১৪:১১:৫৫
ভোটের মাঠে নিজেদের লড়াই: বিদ্রোহের চাপে টালমাটাল বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির ভেতরেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে শতাধিক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় চরম চাপে পড়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন হারানোর আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলো নিয়েই সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এসব আসনে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এসব নেতার অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি ইতোমধ্যে নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকা অন্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ সময় তাদের ভবিষ্যতে বিভিন্নভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে সরে দাঁড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করবে হাইকমান্ড। এরপরও কেউ অনড় থাকলে তার বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কয়েকজন বিদ্রোহী বিএনপি নেতা দাবি করেছেন, মনোনয়ন দেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ও জনসমর্থনের সঠিক জরিপ করেনি। তাদের মতে, অনেক এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই—এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে জনপ্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই একজন মনোনয়ন পেতেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা এতটা বাড়ত না।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই দলের শীর্ষ নেতারা প্রত্যেক বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসবেন। তাদের জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ও সাংগঠনিক পর্যায়ে ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। আগামী ২০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা চলবে। এরপরও কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং প্রতিটি আসনেই একাধিক যোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, সবাইকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অন্য সবাইকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় সাংগঠনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনীতিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মানাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোন আসনে কারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন—তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরও কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন—সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে