ঢাকা, সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

স্থবির এসএমই বোর্ডে প্রাণ ফেরাতে বিএসইসির নীতিগত পরিবর্তন

২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২২:৫৬:২৩
স্থবির এসএমই বোর্ডে প্রাণ ফেরাতে বিএসইসির নীতিগত পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক এসএমই বোর্ডে বড় নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সেকেন্ডারি মার্কেটে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে—এমন যেকোনো বিনিয়োগকারী এসএমই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৯০তম সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে এসএমই বোর্ডে লেনদেনের জন্য বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা ছিল ৩০ লাখ টাকা, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি উভয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা যদি ডিএসইর সেকেন্ডারি মার্কেটে অন্তত ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও ধারণ করেন, তাহলে তারা এসএমই বোর্ডে ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর’ হিসেবে গণ্য হবেন। এ লক্ষ্যে বিএসইসি ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।

বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারনিউজকে জানান, আগের কমিশনের সময়ে আইনের মূল বিধিমালার সঙ্গে পৃথক নির্দেশনার মাধ্যমে যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছিল, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান কমিশন সেই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং বিধিমালার সঙ্গে নির্দেশনার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে প্রণীত এসএমই সংক্রান্ত বিধিমালায় ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য ১০ লাখ টাকার সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে পরবর্তীতে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন আলাদা একটি নির্দেশনার মাধ্যমে এই সীমা বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করে। এতে আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে নির্দেশনার সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এসএমই বোর্ডের লেনদেনের গভীরতায়। নতুন কমিশন এখন মূল বিধিমালার আলোকে আবারও ১০ লাখ টাকার সীমা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এসএমই বোর্ড মূলত ৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর জন্য মূলধন সংগ্রহের একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হয়। বাজার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ শর্তটি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং এটি এসএমই বোর্ডের তারল্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসএমই শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে নিস্তেজ হয়ে থাকা এই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই এসএমই বোর্ড বারবার নীতিগত পরিবর্তনের মুখে পড়ে। শুরুতে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা ছিল ৫০ লাখ টাকা, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ২০ লাখ এবং এরপর আবার বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হয়। এই ঘন ঘন পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সালে এসএমই সূচক ‘ডিএসএমইএক্স’ প্রায় ২১ শতাংশ কমে ৮৫৫ পয়েন্টে নেমে আসে এবং দৈনিক গড় লেনদেন সীমিত হয়ে দাঁড়ায় মাত্র ৫ কোটি টাকায়। নতুন নীতিমালার ফলে ২০২৬ সালে এসএমই বোর্ডে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনিয়োগকারীর কথা এর সর্বশেষ খবর

বিনিয়োগকারীর কথা - এর সব খবর



রে