ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
Sharenews24

চুরি-ছিনতাই হওয়া ফোনের গন্তব্য ছয় দেশ

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১৫:০৫:৩৬
চুরি-ছিনতাই হওয়া ফোনের গন্তব্য ছয় দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৯ হাজার মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই বা হারানোর ঘটনা ঘটে। কিন্তু এসব ফোনের খুব সামান্য অংশ উদ্ধার হয়। বাকি অধিকাংশ ফোন দ্রুত পাচার হয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক চক্রের হাতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট বাংলাদেশ থেকে চোরাই মোবাইল ফোন ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপের মতো দেশে পাচার করে আসছে। আবার সেসব দেশ থেকেও বাংলাদেশে ঢুকছে চোরাই ফোন, যা বাড়িয়ে তুলছে সাইবার অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি।

চুরি হওয়া ফোনের ৭০% পাচার হয়ে যায়

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যানুসারে দেশে চুরি হওয়া ফোনের ৭০ শতাংশই সীমান্তপথে পাচার হয়ে যায়। বিশেষত আইফোনের মতো প্রিমিয়াম ফোন উদ্ধারের হার অত্যন্ত কম—মাত্র ১০ শতাংশ। পাচার হওয়া এই ফোনগুলো সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে কালোবাজারে বিক্রি হয়, যার কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ শুল্ক রাজস্ব। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ফোন পাচার এখন একটি বিশাল আকারের অভিনব ব্যবসা হিসেবে বিস্তার লাভ করেছে।

আইএমইআই পরিবর্তনে সময় লাগে মাত্র ৩–৫ সেকেন্ড

চোরাই ফোনের অন্যতম সমস্যা হলো ফোনটির পরিচয় শনাক্তকারী আইএমইআই নম্বর খুব সহজেই পরিবর্তন করা যায়। আসল ফোন ট্র্যাক করার সুযোগ কমে যায়, আর অপরাধীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। চট্টগ্রামের নন্দনকাননে সম্প্রতি এক অভিযানে পুলিশ উদ্ধার করে ৩৪২টি মোবাইল ফোন ও ৬টি ল্যাপটপ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছে, আইএমইআই পরিবর্তনের পর ফোনগুলো প্রথমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়, এরপর সেখান থেকে ভারত, নেপাল, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়।

হোয়াটসঅ্যাপ–ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক

তদন্তে উঠে এসেছে, দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক চক্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক চালায়। কোন দেশে কোন মডেলের ফোনের চাহিদা আছে—তা জানার পরপরই সীমান্তপথে দ্রুত ফোন পাঠানো হয়। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, একটি সিন্ডিকেট সপ্তাহে ২০০–৩০০টি ফোন পাচার করে থাকে। এভাবে সংগঠিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে ফোন পাচার হওয়ায় এদের ধরতে কঠিন হয়ে পড়ছে।

পাচারের প্রধান রুট: সোনামসজিদ স্থলবন্দর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর এখন চোরাই ফোন পাচারের প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। গত তিন বছরে এই রুট থেকে জব্দ হয়েছে ৩,৩২৪টি ভারতীয় ফোন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৯১ জন পাচারকারী।অন্যান্য রুটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:আখাউড়া-বিজয়নগর সীমান্ত,চট্টগ্রাম,কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,রাজশাহী এইসব সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় হাজার হাজার ফোন পাচার হচ্ছে।

কলকাতায় হারানো আইফোন থেকে মিলল বড় চক্রের সন্ধান

গত বছর কলকাতার এক নারীর হারানো আইফোন ১৪ প্লাস চট্টগ্রামে সক্রিয় অবস্থায় শনাক্ত হয়। বিষয়টি জানার পর ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে তথ্য আদান–প্রদানের ভিত্তিতে সিএমপি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় চক্রের মূল হোতা ওই ফোনটি রেখে পালিয়ে যায়। এরপর ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বড় একটি আন্তঃদেশীয় পাচার সিন্ডিকেটের সন্ধান মেলে।

দেশীয় মোবাইল কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

বিটিআরসি জানিয়েছে, দেশে ২৫০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে ১৭টিরও বেশি মোবাইল ফোন কারখানা রয়েছে। তবুও অবৈধ চোরাই ফোন বাজারের ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে বৈধ মোবাইল নির্মাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সরকারের বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে