ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারলেন না তারেক রহমান

২০২৫ নভেম্বর ২৫ ০৯:১০:২৪
ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারলেন না তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা, রাজনৈতিক কৌশল এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে নানা সমালোচনা উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিশ্লেষক ড. পিনাকী ভট্টাচার্য এসব ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ভিডিওটিতে পিনাকী অভিযোগ করেন যে, বিএনপি বিভিন্ন সময় তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরপরই তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা ছিল বলে নেতারা দাবি করলেও তা হয়নি।

পিনাকীর প্রশ্ন—সেই সুযোগে কেন তিনি দেশে এসে দলের নেতৃত্ব নিলেন না?

ভিডিওতে তিনি দেখান, সংবাদমাধ্যম ও নেতাদের বক্তব্যে তারেকের ফেরার তারিখ অক্টোবর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই, আগস্ট, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এভাবে বারবার বদলেছে।তিনি এটিকে “দীর্ঘসূত্রিতা” হিসেবে ব্যঙ্গও করেন।

তারেক রহমান দেশে না ফেরার সম্ভাব্য তিন কারণ—পিনাকীর বিশ্লেষণ

পিনাকী ভট্টাচার্য তিনটি কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না বলে ধারণা দেন—

১) নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা

তারেক রহমান এমন সময় দেশে ফিরতে চান, যখন তার ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সম্পূর্ণ নিরাপদ হবে।এছাড়া অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সেনাবাহিনীর একটি অংশের প্রতি অবিশ্বাসও থাকতে পারে।

২) নাগরিকত্ব ইস্যু

তারেক রহমান হয়তো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন—হাসিনা সরকারের সময়ে বহিষ্কার হওয়া এড়াতে।পিনাকীর মতে, সে নাগরিকত্ব ত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।

৩) দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা

দেশে ফিরলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা তিনি হয়তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না—এমন ভয় থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে পিনাকী উল্লেখ করেন—ঢাকা-১৪ আসনে ‘তুলি বনাম সাজু’ বিতর্ক।

তার যুক্তি, নির্বাচনের ঠিক আগে “উত্তেজনা চরমে” ওঠার মুহূর্তে তারেক দেশে ফিরলে এসব বিষয় আড়াল হয়ে যাবে।

তারেকের ‘আলু’ মন্তব্য বনাম ‘গণভোট’: রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাত

ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তাত্ত্বিক সমালোচনা।

তারেক রহমান বলেন—“রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোট এখন মূল বিষয় নয়; এখন বেশি জরুরি আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করা বা কৃষকের ক্ষতি পোষানো।”

পিনাকী যুক্তি দেন—মানুষ ৫ আগস্ট বিপ্লব করেছিল ভাত বা আলুর দাম নয়, বরং মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য।তিনি ইরানের আয়াতুল্লাহ খামেনির উক্তি তুলে ধরেন—“আমরা কম দামে তরমুজ খাওয়ার জন্য বিপ্লব করিনি।”

পিনাকীর বক্তব্যে মূল অভিযোগ—তারেক মানুষকে কেবল ভোক্তা হিসেবে দেখছেন, রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে নয়।এটি জনগণকে অরাজনৈতিক বা depoliticize করার সমান।

পিনাকীর বক্তব্যে দুই প্রাক্তন নেতার প্রসঙ্গও উঠে আসে—

জিয়াউর রহমান: তার ১৯ দফার প্রথম দফা ছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা।পিনাকীর মতে, জিয়া কখনো রাজনীতিকে ‘বাজারের তালিকায়’ নামিয়ে আনেননি।

শেখ হাসিনা: তিনি দাবি করেন, তারেক রহমান “আলুর রাজনীতি” করে একই ভুল করছেন—যেমন হাসিনা “উন্নয়ন” দেখিয়ে গণতন্ত্র সংকুচিত করেছিলেন।

পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন—বাংলাদেশের মানুষ এখন শুধু পেটের তাগিদে নয়, মর্যাদা ও স্বাধীনতার রাজনীতি চায়।যে নেতা তাদের সেই পথ দেখাতে পারবেন, জনগণ ইতিহাসের পাতায় তাকেই স্থান দেবে।

তার দাবি, যদি তারেক রহমান আলুর বাজার-কেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে এগোন, তবে তিনি “ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা” থেকে বিচ্যুত হবেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে