ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
Sharenews24

লোকসানি কোম্পানি একীভূত করার বা বিলুপ্তির ক্ষমতা পাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়

২০২৫ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২২:২৫:৪৬
লোকসানি কোম্পানি একীভূত করার বা বিলুপ্তির ক্ষমতা পাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সরকার দেশের বেশ কিছু লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারীকরণ বা একীভূত করার জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ (ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়) আইন, ২০২৫’ শিরোনামে একটি খসড়া আইন তৈরি করা হয়েছে। খসড়া আইনে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার, একত্রীকরণ বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতা অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রদান করবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দিচ্ছে, যা দেশের জন্য বোঝা হয়ে উঠেছে। সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরও সেগুলো লাভজনক করা সম্ভব হয়নি। এই সমস্যা সমাধানে নতুন আইনটির লক্ষ্য।বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় আইনটির বাস্তবায়ন করা হবে। খসড়া

আইনে বলা হয়েছে, সরকার যেকোনো সময় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এক বা একাধিক নিরপেক্ষ পরিচালক নিয়োগ করতে পারবে এবং দুর্নীতি বা ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগের বিচারাধীন থাকা অবস্থায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের তদারকি এবং সমন্বয়ের জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করবে। যার সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারিকরণ বা বিলুপ্তি করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের জন্য লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারিখাতে ছাড়তে বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া সহজতর হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে যে, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক লক্ষ্য, ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, গ্রাহক সন্তুষ্টি সমীক্ষা এবং অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ হয় বা ভুল তথ্য দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিপিডির ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, শুধুমাত্র লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বেসরকারি খাতে ছাড়তে হবে। অত্যাবশ্যক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারী অধীনেই রাখতে হবে।

সাবেক অর্থ ও বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করছেন। তবে তিনি মনে করেন, এসব প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে কেবল একটি আইনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না।

তিনি বলেন, ‘এসব সংস্থার যথাযথ পরিচালনার জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। আবার বেসরকারিকরণ বা বিলুপ্তির জন্য সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরও প্রয়োজন।’

মিজান/

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে