ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Sharenews24

বৈষম্যবিরোধীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

২০২৫ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১১:২৫:৫৯
বৈষম্যবিরোধীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি অংশের নেতৃত্বে একটি নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে, অনুষ্ঠানের মাঝেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এবং শিক্ষার্থীরা বৈষম্য ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নতুন গঠিত কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্যের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব নেই। তাদের মতে, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই নতুন সংগঠনের প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট অবহেলিত হয়েছেন। তারা বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি, অথচ আমাদের এখন বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা একেবারেই বৈষম্য।”

এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং দুজন সমন্বয়ক আহত হন, যাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। বিক্ষোভের কারণে ঢাকার বাংলামোটর এলাকাতেও সড়ক অবরোধ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, “যতদিন না আমাদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, ততদিন পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”

নতুন এই ছাত্র সংগঠনের নাম ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’, যার স্লোগান হল, "শিক্ষা ঐক্য মুক্তি"। কিন্তু, তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই এই বৈষম্যের অভিযোগ এবং দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব উত্থাপিত হওয়ায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনৈক্য এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নতুন সংগঠনের এই শীর্ষ পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সংগঠনের নেতাদের দাবি, তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, কিন্তু তাদের নিজেদেরই এই বৈষম্য থেকে মুক্তি মেলেনি। একদিকে ছাত্ররা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতাশ।

এটা মনে রাখতে হবে যে, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যেই মারা গিয়েছিলেন অনেকে, কিন্তু আন্দোলনের পরবর্তী কমিটিগুলোতে তাদের যথাযথ স্থান পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীদের একজন, মাসরাফি সরকার বলেন, “আমরা যেভাবে আন্দোলনে একসাথে লড়াই করেছি, আমাদের সব জায়গায় প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার অধিকার আছে।” অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলেন, “আমরা এই সংগঠনের সঠিক নেতৃত্ব তৈরি করার চেষ্টা করছি, সব পক্ষকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশীদারদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে, এই নতুন সংগঠন গঠন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে বিদ্যমান বিভাজন অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, যারা নিজেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন, তারা কেন এখন সেই বৈষম্যমূলক আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন, তা জনমনে অনেক অজানা প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

আজকের এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে যারা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, তারা কেন নিজেরাই পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে আটকে গেলেন? একজন আরেকজনের জন্য পদ ছেড়ে দেওয়ার সংস্কৃতির অভাব কেন?

বর্তমানে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, যা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করছে। এই ঘটনাটি শুধুমাত্র ছাত্ররাজনীতির অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং এটি দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

আদনান/

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে