এই সুযোগ হাতছাড়া হলে বাংলাদেশ আর রাষ্ট্র থাকবে না: ড. ইউনূস
নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পাওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ যাতে হাতছাড়া না হয় সেজন্য শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জন্ম থেকে ৫৩ বছরে এ সুযোগ আর আসে নাই। যে সুযোগ তোমরা আমাদের দিয়েছো, এ সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। এ সুযোগ হাতছাড়া হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ থাকবে না। এটা কোনো রাষ্ট্র আর থাকবে না। তিনি বলেন, এটা যেন শুধু রাষ্ট্র নয়, পৃথিবীর সম্মানিত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু তরুণরা এটার হাল ধরেছে। এ কারণে এটা ইউনিক, অন্যন্য দেশ আমরা তৈরি করতে চাই।
রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
মতিবিনিময় সভায় ছাত্র সংগঠক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, এত দিন তারা চুপচাপ শুয়ে শুয়ে স্বপ্নের মধ্যে ছিলো এবং আনন্দসহকারে লুটপাট করে যাচ্ছিলো। এরা কি এখন চুপচাপ বসে থাকবে? না, তারা খুব চেষ্টা করবে আবার তোমাদের দুঃস্বপ্নের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার। শান্তিতে তাদের আবার রাজত্ব চালাতে। তাদের চেষ্টার ত্রুটি করবে না। কাজেই যে কাজ শুরু করেছ, তা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এর থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।
সভার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ সময় হতাহত ব্যক্তিদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ড. ইউনূস। কাঁদতেও দেখা যায় তাকে।
শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ চিন্তায় অনড় থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যে যত পরামর্শ দিক, এটা থেকে বেরিয়ে আসবে, সে পরামর্শ তোমরা গ্রহণ করো না। তোমাদের চিন্তাই স্বচ্ছ ও সঠিক- এটা থেকে সরবে না।
তিনি বলেন, যদি আমরা এ স্বপ্ন থেকে দূরে সরার কোনো কাজ করি, স্মরণ করিয়ে দেবে। আমাদের কোনো ইচ্ছা নেই- এ স্বপ্ন থেকে বাইরে যাওয়ার। এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আমাদের সার্বক্ষণিক কাজ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভুলক্রমে আমরা যদি সীমা অতিক্রম করি, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবে। এ শপথ নিয়ে আমরা সবাই একত্র হলাম। যারা আজকে উপস্থিত হতে পারে নাই, তাদের জানিয়ে দিয়ো- আমরা একযোগে, একসঙ্গে এ কাজে নামলাম। এটাকে সফল করবো।
মতবিনিময় সভায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
তিনি আরও বলেন, দেখছি আর ভাবছি- কী একটা স্বপ্ন আমাদের সবার সামনে, তোমাদের সামনে, জাতির সামনে তোমরা নিয়ে এসেছো। প্রথমেই যারা শহীদ হয়েছে, তাদের স্মরণ করি। যারা শহীদ হয়েছে, তারা চলে গেছে। তোমাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম— তোমরাও শহীদ হয়ে যেতে পারতে। আজকে যারা আমাদের সঙ্গে বসতে পারতো, সেই সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি।
আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যখন হাসপাতালে তাদের দেখার জন্য যাই, তাকাতে কষ্ট হয়। একটা ছেলে, একটা মেয়ে এইরকমভাবে কীভাবে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন ড. ইউনূস।
আপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, একজন তাজা তরুণ রংপুরে আমাকে বললো, ফুটফুটে একটা ছেলে- স্যার, আমি সারাজীবন ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম। ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলাম। এখন দেখেন আমার পা কেটে ফেলেছে… কেঁদে ফেলেছে। ওই পা রাখার উপায় ছিল না। সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে- স্যার, ক্রিকেট খেলবো কী করে?
ক্রিকেট তার মাথা থেকে যাচ্ছে না, পা নাই যতবার দেখি, ততবার মনের সঙ্গে প্রশ্ন জাগে, এটিই আমরা বাংলাদেশ বানিয়েছি যে, এতগুলো তাজা প্রাণ, তাদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে, আমরা যারা আজকে এখানে বসে কথা বলছি, তাদের একমাত্র দায়িত্ব তাদের এই ত্যাগ, এই জীবনের বিনিময়ে তারা আমাদের এখানে বসার সুযোগ দিয়েছে, তারা না গেলে আমরা আজকে এখানে বসতে পারতাম না সবাই, আমরা সরকারের মধ্যে বসেছি ... কেউই একই ভূমিকায় আসতে পারতাম না।
ড. ইউনূস বলেন, ‘কালকে একটা হাসপাতালে গেলাম, আবার সেই দৃশ্য কচি কচি প্রাণ, মাথার খুলি উড়ে গেছে। মাথার অর্ধেক নাই, গুলি মাথার ভেতর রয়ে গেছে। রংপুরের হাসপাতালের দৃশ্য, এক্সরে দেখা হচ্ছে- ওখানে দাগ ছোট ছোট ফুটো করা, আমি বুঝতে পারলাম না, আমাকে কী দেখাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কী, এতগুলো গুলি তার শরীরে রয়ে গেছে, সে বেঁচে আছে।
রাবার বুলেট যতবার দেখি, যতবার শুনি, আবার নতুন করে প্রতিজ্ঞা করতে হয়, যে স্বপ্নের জন্য তারা প্রাণ দিয়েছে সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবায়ন করবো। এটার থেকে আমাদের বেরিয়ে যাবার উপায় নাই। আমাদের যোগ্যতা না থাকতে পারে, ক্ষমতা না থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের প্রতিজ্ঞা রইলো, আমরা এটা করবো।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দুনিয়ার মানুষ তোমাদের কাছে শিখতে আসবে, তোমাদের নিয়ে যাবে, বলবে কী মন্ত্র দিয়ে এটা করেছো? এ মন্ত্রটা তারা শিখতে আসবে। সে মন্ত্রটা তোমরাও টের পাচ্ছো না, এটা কীভাবে আসলো? কিন্তু একটা বিরাট মন্ত্র তোমরা আবিষ্কার করেছো। সেটাকে ধরে রাখবে। এ মন্ত্র যদি শিথিল হয়ে যায় তাহলে আমাদের কপালে অশেষ দুঃখ আছে। সেই দুঃখ যেন আমাদের দেখতে না হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তারিক/
পাঠকের মতামত:
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর কোরবানি স্থগিত
- নতুন পে স্কেলে বেশি সুবিধা পাবেন যারা
- চীনের প্রভাব ঠেকাতে চার দেশের নতুন কোয়াড
- গোপন ক্যামেরা গোপন নজরদারি ঠেকাতে কাজে লাগতে পারে এই ৩ অ্যাপ
- জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ
- কুরবানি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার ব্যাখ্যা
- একসঙ্গে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, যা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
- হঠাৎ বিসিবি থেকে সরে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রীর ছেলে
- যানজটে আটকে ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট এমপির
- খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতিতে চাপে প্রিমিয়ার ব্যাংক
- কারখানা উন্নয়ন ও বিএমআরই প্রকল্পে এগোচ্ছে টেকনো ড্রাগস
- দেশ ও বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
- ঈদের বাজারে সোনার দামে নতুন চমক
- ঘুমিয়ে পড়া বিতর্ক নিয়েও ব্যাখ্যা দিলেন ট্রাম্প
- বাংলাদেশিদের নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন কড়া অবস্থান
- স্ত্রীকে ‘পছন্দ হয়নি’, তাই ৫০ হাজারে বিক্রি করল স্বামী!
- ১৪ বছর পর ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি নারী নুরুন্নাহার নিম্নি
- ফ্যামিলি কার্ডের পর আরও যেসব কার্ড আনছে সরকার
- ৩২ লাখ টাকার গরু বিতর্কে মুখ খুললেন মন্ত্রীর ছেলে
- আরাফা শেষে আজ সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা
- মতিঝিল কার্যালয় বন্ধ ঘোষণা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
- ‘কিচেন কেবিনেট’ বিতর্কে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ
- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছুটির পরিকল্পনায় প্রশাসনে তোলপাড়
- নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ রাশেদের
- ইরান ইস্যুতে নতুন বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র
- ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের গুঞ্জনে বিক্ষোভ
- ‘কিচেন কেবিনেট’ বিতর্কে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ
- হাসিনার প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন রিজভী
- আইপিও তহবিলের ৩২৪ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বেস্ট হোল্ডিংস
- ‘ইসরায়েল দিবস প্যারেড’ বয়কট করলেন মামদানি
- ফের দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
- ক্যানসারের পর আবার হাসপাতালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী
- শেয়ারবাজারে ঈদের ছুটি শুরু
- চীনে যাচ্ছে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের ২০ তরুণ নেতা
- ভাইরাল গানের ভিডিও নিয়ে যা বললেন মাদানী
- ৬ মুসলিম দেশকে কঠিন শর্ত দিলেন ট্রাম্প
- ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বিক্রি নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন খামার মালিক
- কৃষি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নুরুল আমিন
- আজ যেসব এলাকায় সীমিত পরিসরে চালু ব্যাংক শাখা
- ১০০ দিনে সরকারের অর্জনের তালিকা প্রকাশ
- পদ্মায় ট্রলারডুবিতে ব্যবসায়ীসহ ২৩ গরু নিখোঁজ
- ধর্ষ/ণে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আরেক শিশু
- “আ.লীগ ফিরে আসবে”— চাঞ্চল্যকর দাবি সাবেক উপদেষ্টার
- নতুন পে-স্কেল: গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য বেতন কাঠামো
- রামিসার মামলায় চার্জশিটে উঠে এলো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৩ প্রার্থী
- ঈদের দিন বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ‘কিচেন কেবিনেট’ নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক উপদেষ্টা
- ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর বড় মন্তব্য সেতুমন্ত্রীর
- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মক্কা
- শেয়ারপ্রতি ৫০ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- দুর্বল তিন কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখবে ডিএসই
- শেয়ারবাজারে অনিয়ম: তিন কোম্পানির চেয়ারম্যান-পরিচালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- প্রভিশন ঘাটতিতে বিপর্যস্ত তিন ব্যাংক, প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
- আ.লীগ নিষিদ্ধের তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
- ব্যাংকের ডিভিডেন্ড নীতিতে নতুন কড়াকড়ি বাংলাদেশ ব্যাংকের
- নতুন পে-স্কেল: গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য বেতন কাঠামো
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছুটির পরিকল্পনায় প্রশাসনে তোলপাড়
- রায় মাথায় নিয়েই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা!
- বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
- শেয়ারবাজারে বড় কোম্পানি আনতে নতুন নীতির কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- “আ.লীগ ফিরে আসবে”— চাঞ্চল্যকর দাবি সাবেক উপদেষ্টার
- ধর্ষি/ত শিশুর পরিবারের সামনে একে একে কাটা হয় ধর্ষ/কের অঙ্গ
- আবাসিক হোটেলে সহ-সভাপতির স্ত্রীর সঙ্গে যুবদল সভাপতি, ভিডিও ভাইরাল













