×
ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

গত বছর ছিল ২০২, এবার ২৯৩! এইচএসসির ফলাফলে নতুন উদ্বেগ

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১২:১৩:৩৩
গত বছর ছিল ২০২, এবার ২৯৩! এইচএসসির ফলাফলে নতুন উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। এবার ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।

অন্যদিকে, চলতি বছর শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন মাত্র ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ একদিকে অনেক প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি, অন্যদিকে শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে তুলনামূলক কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২০২টি।

অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতি দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, এবার ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পাসের সাফল্য এবারের ফলাফলে ইতিবাচক দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সে হিসাবে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন।অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। একই সঙ্গে পাসের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাওয়ায় এবারের ফলাফলে সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

সব মিলিয়ে এবারের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার পাশাপাশি শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে