×
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দেশে ফেরা নিয়ে ভক্তদের ফাইনাল তথ্য দিলেন পিনাকী ভট্টাচার্য

২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১১:৫০:১১
দেশে ফেরা নিয়ে ভক্তদের ফাইনাল তথ্য দিলেন পিনাকী ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও চিকিৎসক পিনাকী ভট্টাচার্য জীবনের এক কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। ২০১৬ সালে হঠাৎ কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলা, একপাশের ভোকাল কর্ড প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ তিন মাস স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে আবার কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।

নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে পিনাকী জানান, একসময় তাঁর কণ্ঠস্বর পুরোপুরি হারিয়ে গিয়েছিল। কথা বলতে গেলে অস্পষ্ট শব্দ বের হতো। এমন পরিস্থিতিতে কাগজে লিখে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো তাঁকে।

পিনাকী ভট্টাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল সম্ভবত ২০১৬ সালে। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর গলা বসে গেছে। কথা বলার চেষ্টা করলেও স্বাভাবিক কণ্ঠ বের হচ্ছিল না।

প্রাথমিক চিকিৎসা ও গার্গল করার পরও এক সপ্তাহে অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং ধীরে ধীরে কথা বলার সক্ষমতা আরও কমে যায়। যে মানুষটি কথা বলেই নিজের কাজ ও জীবন পরিচালনা করতেন, তাঁকে তখন কাগজে লিখে মনের ভাব প্রকাশ করতে হতো।

প্রথমে অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন ওষুধ সেবন করেও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে তাঁর শিক্ষক ও ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহর শরণাপন্ন হন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, তাঁর গলার এক পাশের ভোকাল কর্ড সচল থাকলেও অন্য পাশেরটি সম্পূর্ণ নিশ্চল হয়ে গেছে। চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন কথা শুনে তিনি ও তাঁর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

পিনাকী জানান, চিকিৎসক তখন তাঁকে বলেছিলেন, কিছুটা উন্নতি হলেও আগের মতো কণ্ঠ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম।চিকিৎসকের পরামর্শে স্পিচ থেরাপি শুরু করেন পিনাকী। প্রায় তিন মাস ধরে নিয়মিত থেরাপি ও উচ্চারণের অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয় তাঁকে।

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, প্রায় ৫০ বছর বয়সে তাঁকে শিশুর মতো করে শব্দ উচ্চারণের অনুশীলন করতে হতো। এমনকি থেরাপির অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ইংরেজি বাক্য বারবার বলতে হতো।

একদিন থেরাপিস্টের অনুরোধে সাউন্ডক্লাউডে নিজের পুরোনো কণ্ঠে আবৃত্তি শোনেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর জন্য আবেগঘন। নিজের আগের কণ্ঠস্বর শুনে মনে হচ্ছিল, সেটি যেন হারিয়ে যাওয়া অতীতের কোনো স্মৃতি।

তিন মাসের কাছাকাছি সময়ে থেরাপির একটি বাক্য উচ্চারণ করতে গিয়ে হঠাৎ কয়েক মুহূর্তের জন্য কণ্ঠ ফিরে আসে। এরপর কণ্ঠস্বর বারবার ফিরে আসা ও হারিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পান তিনি বলে জানিয়েছেন।কণ্ঠ ফিরে পাওয়ার পর আনন্দ নিয়ে নিজের শিক্ষকের কাছে যান পিনাকী। ভোকাল কর্ডের অবস্থা যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ জানান তাঁকে।

তবে চিকিৎসক তা করতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, পিনাকী যেহেতু আবার কথা বলতে পারছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় যদি দেখা যায় ভোকাল কর্ড আগের অবস্থায় ফেরেনি, তাহলে তাঁর মন খারাপ হতে পারে।

চিকিৎসকের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন পিনাকী।জীবনের এই অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন পিনাকী। তাঁর ভাষ্য, নিজের কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়াকে তিনি সৃষ্টিকর্তার বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে দেখেন। তাই বস্তুগত সম্পদ বা সঞ্চয় হারানোর ভয় তাঁর মধ্যে কাজ করে না।

পোস্টে তিনি আরও জানান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে ফেরার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল তাঁর। তবে নানা বাস্তবতায় সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।

বর্তমানে দেশে ফেরার সেই আগের টান আর অনুভব করেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। অতীতে পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময়ের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন পিনাকী। তাঁর আশঙ্কা, হয়তো আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা হবে না।

সবশেষে নিজের জীবনের শেষ ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি বাংলাদেশে মেধাবীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি জনগণের সরকার দেখতে চান।

জীবনের শেষ দিনেও যদি এমন একটি সরকার দেখে যেতে পারেন, সেটিই হবে তাঁর বড় প্রাপ্তি—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তিনি। ফিরে পাওয়া কণ্ঠে বারবার এই আকাঙ্ক্ষার কথাই বলে যেতে চান বলে উল্লেখ করেছেন পিনাকী।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে