×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ককরোচদের ঠেকাতে মাঠে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’, প্রথম সমাবেশেই তীব্র বার্তা

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১১:০০:২৩
ককরোচদের ঠেকাতে মাঠে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’, প্রথম সমাবেশেই তীব্র বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিক্ষোভের পাল্টা অবস্থান নিতে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’। রোববার (১৮ অক্টোবর) দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে সংগঠনটির প্রথম সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের সমালোচনা করেন দলটির নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান অয়ন ভাটনগর বলেন, ভারতের গণতন্ত্র রক্ষার উদ্দেশ্যেই নতুন দলটি গঠন করা হয়েছে। সমাবেশে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। অল্প সময়ের নোটিশে কত মানুষকে একত্র করা সম্ভব, তা দেখানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান তিনি।

সিজেপির বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করে ভাটনগর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; মানুষকে রাজপথেও সক্রিয় হতে হবে। তাঁর দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলার ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সিইসির পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে ভাটনগর বলেন, আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করা হলে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠতে পারে। তবে কোনো দাবির পক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ জমায়েত হলেই তা মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নিয়েও বক্তব্য দেন ভাটনগর। ২০২৩ সালে চালু হওয়া নিয়োগপ্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বিরোধীদলীয় নেতাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান সিইসির পদত্যাগ দাবি করার আগে তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং আগের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ পর্যালোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সিজেপির বিক্ষোভের কারণে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাংবাদিক পবনের দাবি, আন্দোলনের কারণে ব্যবসায়ীদের প্রায় তিন হাজার কোটি রুপি ক্ষতি হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১০ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। তবে এসব আর্থিক ক্ষতির দাবির পক্ষে সমাবেশে বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

সমাবেশে নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্তও বক্তব্য দেন। তিনি ভারতের জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে