×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নতুন নির্দেশনা

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১০:৪৮:১৮
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ফরম পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফিসহ ২৪ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ থাকবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি জিপিএ উন্নয়ন, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নবায়ন এবং পাঠ্যসূচি নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে কোনো অবস্থাতেই তাদের নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয় বাদে এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে পারবে। চাইলে তারা সব বিষয়েও অংশ নিতে পারবে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় বাদে এক থেকে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি অথবা অংশ নিয়েও এক বা একাধিক বিষয়ে আবার অকৃতকার্য হয়েছে, তারাও নিবন্ধনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তারা আগের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে আংশিক বিষয়ে পরীক্ষা দিলে চতুর্থ বিষয়ে অংশ নেওয়া যাবে না।

২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থীর নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু চতুর্থ বিষয় বাদে এখনো একটি বিষয়ে অকৃতকার্য রয়েছে, তারা বিশেষ বিবেচনায় নিবন্ধনের মেয়াদ এক বছরের জন্য নবায়ন করে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ফরম পূরণের আগে শিক্ষার্থীর মূল নিবন্ধন কার্ড বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিয়ে নবায়ন করা নিবন্ধন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আগে উত্তীর্ণ বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্ট সংরক্ষিত থাকবে। ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্টের সঙ্গে সংরক্ষিত গ্রেড পয়েন্ট যুক্ত করে চূড়ান্ত জিপিএ নির্ধারণ করা হবে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলেও জিপিএ-৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

এ জন্য তাদের সব বিষয়ে ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ বাড়লে নতুন ফলাফল গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় আগের জিপিএ বহাল থাকবে।

জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের আগের পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি ফরম পূরণের প্রিন্ট কপির সঙ্গে জমা দিতে হবে।

যেসব শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং নিবন্ধনের মেয়াদ এখনো রয়েছে, তারা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে। তবে তাদের সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২০২৭ সালে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে।

এ ছাড়া ওই দুই শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা ২০২৭ সালে আগের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলে চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা পাবে।

বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে। অন্যদিকে, অনিয়মিত ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে।

শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ে সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে নম্বর পাঠানো হবে। কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে। পাশাপাশি হাতে লেখা মূল নম্বরপত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় জমা দিতে হবে।

জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী এবং আগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের বাদে অন্য সব শিক্ষার্থীর জন্য নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফরম পূরণের আগে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি জমা দেওয়ার নিয়ম জেনে নিতে হবে। বিশেষ করে অনিয়মিত, জিপিএ উন্নয়ন ও নিবন্ধনের মেয়াদ নবায়ন করতে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের বিজ্ঞপ্তির শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে