×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ডিএসইর ডেটা সেন্টারে বিভ্রাট, দ্বিতীয় দিনেও বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৮:৫৪:২৩
ডিএসইর ডেটা সেন্টারে বিভ্রাট, দ্বিতীয় দিনেও বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডেটা সেন্টারে শনিবার দেখা দেওয়া প্রযুক্তিগত সমস্যা রোববারও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিঘ্নের মধ্য দিয়ে চলেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারটির লেনদেন। আগের দিনের তুলনায় সমস্যায় পড়া ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটির ভোগান্তি অব্যাহত ছিল।

রোববার শীর্ষ ১০ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি লেনদেন পরিচালনায় সমস্যায় পড়ে। প্রতিষ্ঠানগুলো ডিএসইর ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে সরাসরি লেনদেনের জন্য অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) সফটওয়্যার ব্যবহার করে। দিনভর তাদের লেনদেনে বিঘ্ন ঘটায় বাজারের সার্বিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ে।

প্রযুক্তিগত সমস্যার মধ্যে রোববার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আগের দিন শনিবার লেনদেনের পরিমাণ আরও কমে দাঁড়িয়েছিল ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকায়। ওই পরিমাণ লেনদেন ছিল গত সাড়ে নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং চলতি বছরেরও সবচেয়ে কম। রোববারও লেনদেনের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকার নিচে ছিল।

লেনদেন কমার পাশাপাশি রোববার বাজারের প্রধান সূচকেও পতন হয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমেছে। আগের দিন সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৪৩৩ পয়েন্ট।

জরুরি পরিস্থিতিতে লেনদেন চালু রাখার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিজাস্টার রিকভারি (ডিআর) ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছে ডিএসই। ডিএসই টাওয়ার থেকে কেন্দ্রটির দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এর আগে মতিঝিল থেকে মূল ডেটা সেন্টার সরিয়ে ডিএসইর নিকুঞ্জের প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সংস্থাটির দুটি ডেটা সেন্টার রয়েছে।

কয়েক মাসের প্রস্তুতি শেষে শনিবার কারওয়ান বাজারের ডিআর ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো লেনদেন শুরু করে ডিএসই। আগামী দুই মাস এই কেন্দ্রের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল সংস্থাটির। কিন্তু কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে লেনদেনে বিঘ্ন ঘটে।

প্রথম দিনের সমস্যাকে নতুন ব্যবস্থায় কার্যক্রম শুরুর সময়ের ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রোববার আর সমস্যা হবে না। তবে দ্বিতীয় দিনেও একই ধরনের জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি।

বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ জানতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডিএসইর কর্মকর্তারা। তারা বলেন, সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে সময় লাগবে। দুর্গাপূজার ছুটির সময়ে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালাবে ডিএসই।

তবে সোমবার থেকে লেনদেনে আর বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আসিফুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, রোববারও সমস্যা থাকলেও আগের দিনের তুলনায় এর প্রভাব কম ছিল। প্রথম এক ঘণ্টায় দুটি বড় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ওএমএস সফটওয়্যারের সঙ্গে ডিএসইর সংযোগ ঠিকমতো কাজ করেনি। কেন এমনটি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ওএমএস সফটওয়্যারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভেন্ডরকে অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি।

বর্তমানে ওএমএস ব্যবহার না করা অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো ডিএসইর সফটওয়্যারের সঙ্গে নিজেদের ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনে কানেক্টিভিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে। পাঁচ থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসকে এ ধরনের সফটওয়্যার সরবরাহ করে থাকে।

রোববার ওএমএস ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও সংযোগজনিত সমস্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়া তিনটি বড় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের একটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, দিনভর বিরতি দিয়ে দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কোনো কোনো সময় অর্ডার গ্রহণ করা হলেও অন্য সময় তা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা। বিষয়টি ডিএসইকে জানানো হলে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে