×
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

লাভেলোর শেয়ার কারসাজির দায়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

২০২৬ অক্টোবর ১৭ ২৩:৫৪:৫৮
লাভেলোর শেয়ার কারসাজির দায়ে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লভেলো আইসক্রিম পিএলসির শেয়ারে সিরিজ ট্রেডিং ও কৃত্রিম দরবৃদ্ধির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংক সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, একটি কর্পোরেট প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং তিন ব্যক্তিকে সর্বমোট ৩৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এনফোর্সমেন্ট আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসইর তদন্তে ২০২৫ সালের ২৬ মে থেকে ৩০ জুনের মধ্যে লভেলোর শেয়ার লেনদেনে চরম অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। উক্ত সময়ে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭৮.৯০ টাকা থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮.৬০ টাকায় পৌঁছায়।

ডিএসইর অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিবিসি ক্যাপিটাল এবং লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের মালিক ঝুয়াং লিফেংয়ের সাথে যুক্ত বিভিন্ন বিও হিসাবের একটি আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্ক বা সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। এই চক্রের মধ্যে ছিল সিবিসি ক্যাপিটাল, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিজ ফ্যাশনের অর্থ প্রধান এইচএম রুবাইয়াত, তাঁর স্ত্রী শায়লা আক্তার এবং প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্ল্যানিং) রাজন কুমার সাহা।

তদন্তে উন্মোচিত হয়, উল্লিখিত সময়ে লভেলোর মোট শেয়ার লেনদেনের ২২.৩০ শতাংশই সম্পন্ন করেছে এই সিন্ডিকেট। তারা বাজারে কৃত্রিমভাবে লেনদেনের গতি ও শেয়ারের দাম বাড়াতে ৯ লাখ ৬৭ হাজার ১২৫টি শেয়ারের ১৩টি ম্যাচড বা সার্কুলার ট্রানজেকশন সম্পন্ন করে। এই কারসাজির মাধ্যমে চক্রটি ২.২৪ কোটি টাকার রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন এবং ১.৯৫ কোটি টাকার আনরিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন হাসিল করে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে লিজ ফ্যাশন ইসিপিএফকে সর্বোচ্চ ১৪.৬৬ লাখ টাকা এবং সিবিসি ক্যাপিটালকে ৭.৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্যক্তিমাত্রিক জরিমানার ক্ষেত্রে এইচএম রুবাইয়াতকে ৬.৮২ লাখ টাকা, শায়লা আক্তারকে ৪.৯৪ লাখ টাকা এবং রাজন কুমার সাহাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর দুটি ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এই দণ্ড আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কৃত্রিম ও বিভ্রান্তিকর লেনদেন সৃষ্টির অপরাধে প্রতিটি পক্ষকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানার পাশাপাশি শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অপরাধে অতিরিক্ত অর্থদণ্ড ধার্য করা হয়।

এনফোর্সমেন্ট শুনানিতে অভিযুক্তরা মার্চেন্ট ব্যাংকের ওপর পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান, সিকিউরিটিজ আইন না জানা কিংবা ধর্মীয় তীর্থযাত্রার কারণে সাময়িক অনুপস্থিতির অজুহাত উপস্থাপন করেন। এমনকি সিবিসি ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদ দাবি করে, তৎকালীন সাময়িক বরখাস্তকৃত সিইওর অননুমোদিত পদক্ষেপে এসব লেনদেন সংঘটিত হয়েছিল।

তবে বিএসইসি এসব অজুহাত খণ্ডন করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিসাবধারী বা কর্পোরেট বোর্ড কোনোভাবেই আইনি ও নিয়মকানুন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যেতে পারে না। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে ধার্যকৃত জরিমানা বিএসইসির অনুকূলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে