×
ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

‘ফাটাকেষ্ট’ নওশাদ খান কোথায়? নিজেই দিলেন আসল তথ্য

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৭:১৩:২৪
‘ফাটাকেষ্ট’ নওশাদ খান কোথায়? নিজেই দিলেন আসল তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ নিয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। তার বিভিন্ন অভিযান ও কার্যক্রমের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর যাত্রীদের কাছে পরিচিতি পান তিনি। এমনকি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকে তাকে ‘ফাটাকেষ্ট’ নামেও ডাকতে শুরু করেন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওশাদ খানের আগের মতো উপস্থিতি না থাকায় তাকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার বদলি হয়েছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন।

কালবেলা অনলাইনের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি বিমানবন্দরে ছিলেন। তখন তিনি লাগেজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কাজ তদারক করছিলেন বলে জানান।

নওশাদ খান ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অভিযান এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

যাত্রী হয়রানি, লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তার তৎপরতা যাত্রী ও প্রবাসীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে লাগেজ নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নজরদারি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়।

লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি-ক্যামেরার আওতায় আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট জোনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ক্যামেরার ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়।

এসব কারণে বিমানবন্দরে কোনো অনিয়ম বা যাত্রী ভোগান্তির অভিযোগ উঠলেই নওশাদ খানের নাম আলোচনায় আসত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে আবারও নানা অভিযোগ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে দেরি, ট্রলির সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহারে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক সত্যতা আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

এদিকে সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নওশাদ খানের আগের বিভিন্ন অভিযান ও কার্যক্রমের ভিডিও শেয়ার করছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যাত্রীদের অভিযোগে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া সেই কর্মকর্তা বর্তমানে কোথায় দায়িত্ব পালন করছেন।

নওশাদ খানকে আবারও বিমানবন্দরে সক্রিয়ভাবে দেখতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যও দেখা গেছে। তবে বাস্তবে তিনি বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন।

বর্তমানে কোথায় কী দায়িত্বে আছেন জানতে চাইলে নওশাদ খান বলেন, ‘আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের কাজ করলাম। এসব খবর অনলাইনে দেখছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আগের তুলনায় কম দেখা যাওয়ার কারণও জানিয়েছেন তিনি। নওশাদ বলেন, তিনি খুব একটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না এবং এটি অনেকটাই এড়িয়ে চলেন। তার ভাষ্য, এ কারণেই অনেকে হয়তো মনে করছেন তাকে বিমানবন্দর থেকে বদলি করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নওশাদ খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তার কাছে জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি সাধারণ যাত্রীদের উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগ যথাযথভাবে জানানো হলে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে