×
ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

২০০৮ থেকে ২০২৫-এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস নিয়ে হাসনাতের প্রশ্ন

২০২৬ অক্টোবর ০৩ ০৯:১৭:৫৮
২০০৮ থেকে ২০২৫-এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস নিয়ে হাসনাতের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এবং এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এসব সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

হাসনাতের পোস্টে ২০০৭ সালে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে করা একটি দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তাঁর দাবি, এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করা ওই মামলায় ২০০৮ সালে বিশেষ আদালত সালাহউদ্দিন আহমদকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা করেছিলেন। ঘুষ হিসেবে নেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশও দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব তথ্যের উল্লেখ সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও রয়েছে।

এ ছাড়া ২০০৮ সালের আরেকটি দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গও তোলেন হাসনাত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ওই মামলায় সালাহউদ্দিন আহমদের ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল। হাসনাত আরও দাবি করেন, ওই মামলায় চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ নিয়ে অভিযোগ ছিল।

তবে এসব পুরোনো মামলার তথ্য বর্তমান সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে না। হাসনাত তাঁর পোস্টে মূলত এসব ঘটনা ও সম্পদের পরিমাণ সামনে এনে স্বচ্ছ হিসাবের দাবি জানিয়েছেন।

হাসনাতের পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও কয়েকটি হিসাব তুলে ধরা হয়। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে তাঁদের মোট সম্পদ ছিল প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে তা বেড়ে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৩০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এই অঙ্কগুলো হাসনাতের উত্থাপিত হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ২০২৫ সালের নির্বাচনী হলফনামা-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদের বার্ষিক আয় ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা দেখানো হয়েছে। তাঁর আয়ের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে জমি বিক্রি থেকে মূলধনী আয়, কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানি, কৃষি, ব্যবসা ও সম্পত্তির ভাড়া রয়েছে।

হাসনাত তাঁর পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদের গুলশানের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর বৈধ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

সালাহউদ্দিন আহমদ আগে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন উল্লেখ করে হাসনাত তাঁর সরকারি চাকরির সময়কার আয় ও পরবর্তী সময়ে সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিও সামনে আনেন। সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর কীভাবে তাঁর সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

এ সময় হাসনাত সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে যদি কারও আর্থিক হিসাব যাচাই করা হয়, তাহলে একইভাবে মন্ত্রী-এমপিদের ব্যাংক হিসাবও যাচাই করা উচিত। তিনি মন্ত্রী-এমপিদের নিকটাত্মীয়দের আর্থিক হিসাবও নিয়মিত যাচাইয়ের দাবি জানান।

হাসনাতের এসব বক্তব্য মূলত তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রশ্ন ও দাবি। সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস নিয়ে নতুন কোনো তদন্তের সিদ্ধান্ত বা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে