×
ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ওয়্যারহাউসে অবৈধ মদের সন্ধান, সিলগালা

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৭:২০:১৪
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ওয়্যারহাউসে অবৈধ মদের সন্ধান, সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক: শুল্কমুক্ত মদ অননুমোদিত গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি গুদাম সিলগালা করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে অবস্থিত বন্ডেড ওয়্যারহাউজটিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযানে অংশ নেয় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অভিযানকালে প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসংগতি’ শনাক্ত হওয়ায় বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য গুদামগুলো সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া অভিযান চলে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে ওয়্যারহাউজের বিভিন্ন নথি ও পণ্য সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হয়।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, টস বন্ডের অনুমোদিত বা ঘোষিত গুদামের সংখ্যা দুটি। তবে অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির আওতায় মোট চারটি গুদামে পণ্য সংরক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে পণ্য রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য যাতে অননুমোদিত গুদামে স্থানান্তর বা অপসারণ করা না যায়, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটির চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান তদন্তের স্বার্থেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে তদন্ত ও বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম এখনো চলমান। যাচাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ থেকে শুল্কমুক্ত মদ কেনার সুযোগ মূলত বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং আইন অনুযায়ী বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। তবে টস বন্ডের বিরুদ্ধে এসব পণ্য খোলাবাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল।

এদিকে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের বিষয়ে কানাডা থেকেও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছে এনবিআরের সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে তাদের নাগরিকত্ব, আর্থিক লেনদেন এবং অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানা সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কানাডা থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে ঢাকার টস বন্ডের পরিচালক হিসেবে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং মেয়ে তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশে মদ ও বার ব্যবসার বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি বিদেশে নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর কর-সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নুরুল ইসলামের পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ সময়ে মোট ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

এসব নথির মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেনের ১৭টি, সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টার দুটি, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ১১৮টি, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের (ইএফটিএন) মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ২৬টি এবং আন্তদেশীয় অর্থ লেনদেনের দুটি নথি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও পাওয়া গেছে।

সিআইসি, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট এবং এনবিআরের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব তথ্যের কথা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নথির সারাংশের অনুলিপিও গণমাধ্যমটির হাতে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৃহস্পতিবারের গুদাম সিলগালার অভিযানটি সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সিআইসির এক কর্মকর্তা বলেন, সালমান মুক্তাদির এ তদন্তের বিষয় নন এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই কাজ করছিল। তদন্তে কিছু তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানান তিনি।

আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, নুর ইসলামের মদ ব্যবসা ও বন্ডেড ওয়্যারহাউজের বিষয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে তার ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। তবে আয়কর ছাড়াও ভ্যাট ও আমদানি শুল্কের বিষয় থাকায় সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এর মধ্যে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির এ ঘটনার জন্য ‘বিএনপির চাঁদাবাজিকে’ দায়ী করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পরে তিনি ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে সরে আসেন।

অন্যদিকে, নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার করা মামলায় জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান। এর আগে বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে