×
ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

মা বাসাবাড়িতে কাজ করে পড়িয়েছেন, চাকরি পেয়েও শেষ পর্যন্ত বাদ মিশন

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৩:০৯:০৮
মা বাসাবাড়িতে কাজ করে পড়িয়েছেন, চাকরি পেয়েও শেষ পর্যন্ত বাদ মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে কোনো বসতভিটা না থাকায় নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় বেড়ে ওঠা এই শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পরও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি নিয়োগপত্র পাননি।

মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকায় বসবাস করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাকে বড় করেছেন। আর্থিক সংকটের কারণে নিজেদের কোনো বসতভিটা না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

মিশন জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় এবং অন্যজন তিনি হওয়ায় নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেন মিশন। তিনি উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেছিলেন বলেও জানান।

তার দাবি, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তার খালু গ্রামের বাড়ির এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। নিয়োগের পুলিশ তদন্তের সময় ওই জমির দলিলও তিনি জমা দেন। তবে জমিটিতে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাসও করেননি বলে জানান।

মিশনের ভাষ্য, পুলিশ তদন্তের সময় তিনি ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন তাকে জমির দলিল জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। সে অনুযায়ী তিনি দলিল জমা দেন। পরে স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে কোনো বসতভিটা না থাকার বিষয়টি নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে এবং এ কারণেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মিশন বলেন, তার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাকে নিয়োগ দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরে মিশন বলেন, ভাড়া বাসায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা তার নিজের কোনো দোষ নয়। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তিনি ভোট দেন, পড়াশোনা করেছেন এবং নিজের যোগ্যতায় সরকারি চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার মেধা ও পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মিশন আচার্যের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে