×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সৌরবিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ

২০২৬ অক্টোবর ০১ ০৮:১৩:৫১
সৌরবিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বা মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনার পাইকারি দাম এবং সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩৩ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কেভি সংযোগে ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে কিনবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিইআরসি। এর ফলে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সরকারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বড় গ্রাহকের কাছে সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের মূল্যের পাশাপাশি সংযোগের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ পরিশোধ করতে হবে।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্ধারিত মাশুল দিতে হবে।

বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের এই মাশুলকে ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ বলা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের ধরন অনুযায়ী প্রতি ইউনিটে এ মাশুল ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রিডে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত থাকলে সঞ্চালন ভোল্টেজ অনুযায়ী মাশুল দিতে হবে। ২৩০ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল ১ টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিষ্পত্তির খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সঞ্চালন মাশুল হিসেবে ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল ১ টাকা ১৭ পয়সা এবং হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য আরও ৫ পয়সা দিতে হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে পৃথক বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সার মাশুল প্রযোজ্য হবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে বিতরণ লসও আরোপ করা হবে না। এ ক্ষেত্রে দেশের সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন একটি বিতরণ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের মধ্যে সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ২২ পয়সা।

তবে নির্ধারিত মাশুলের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে। সঞ্চালন লসের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিডের প্রতি মাসে প্রকাশিত প্রকৃত গড় হার এবং বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজ পর্যায়ে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত হার বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বিতরণ সংস্থাভেদেও পৃথক মাশুল নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। বিপিডিবির জন্য প্রতি ইউনিট ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির জন্য ৮৫ পয়সা এবং ডেসকোর জন্য ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জন্য ৮৭ পয়সা এবং নেসকোর জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব সংরক্ষণ এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্ব পালন করবে বিপিডিবি। নির্ধারিত হারে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে বিল আদায় করে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে সংস্থাটি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালার আওতায় একটি এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। অবশিষ্ট বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম এবং গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। শেষ পর্যন্ত কমিশন ৩৩ কেভি সংযোগের জন্য ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কেভির জন্য ৭ টাকা ১১ পয়সা দাম নির্ধারণ করেছে।

গণশুনানিতে বিপিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, শিল্পগ্রাহকরা দিনের বেলায় মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারেন। নতুন মাশুল কাঠামোর মাধ্যমে সরকারি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের খরচ নির্ধারণ করে এ ধরনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে