×
ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজী নজরুলের সঙ্গে আপসের কারণ জানালেন মরিয়মের বাবা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৭:৩১:০৫
গাজী নজরুলের সঙ্গে আপসের কারণ জানালেন মরিয়মের বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আপস করেছেন নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে তিনি আসামিদের পক্ষে আপসনামা দেন। সেখানে কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে তার বা তার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে।

আপসনামায় মাসুম বিল্লাহ উল্লেখ করেন, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাৎক্ষণিক সন্দেহের ভিত্তিতে তার জামাই গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, নজরুল ইসলাম ও মাকছুদার প্ররোচনা কিংবা কোনো কার্যকলাপের কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি—এমন দাবির ভিত্তিতেই তিনি আপসের সিদ্ধান্ত নেন।

আপসনামায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার মেয়ের স্বামী এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। আত্মীয়স্বজনদের মধ্যস্থতায় আলোচনা করে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি বজায় রাখা এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার উদ্দেশ্যে আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন বলে জানান তিনি।

আপসনামার শর্তে বলা হয়েছে, শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে বাদী বা তার পরিবারের কারও আপত্তি থাকবে না। তারা জামিনে মুক্ত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারাধীন বিষয়ে উভয় পক্ষ আদালতের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও আপসনামায় বলা হয়েছে।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে নারী আসামি হিসেবে মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করা হলেও গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জানান, গাজী নজরুলের জামিনের জন্য তারা পুনরায় আবেদন করবেন অথবা উচ্চ আদালতে যাবেন।

এর আগে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

মামলাটি করা হয় মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর পর। ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম দফায় চার দিন এবং পরে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও পরে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

রিমান্ডের আবেদন নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়েছিল। ২৮ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে পুলিশ দাবি করে, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাকে মাঝে মাঝে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় রাত কাটাতে হতো। এসব তথ্য তদন্তসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে; মামলার চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের আইনজীবী শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ার দাবি করে জামিন চেয়ে আসছেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে