×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে নিয়ে সোহেল তাজের ‘এপিঠ-ওপিঠ’ মন্তব্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৮:১৯:৪২
আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে নিয়ে সোহেল তাজের ‘এপিঠ-ওপিঠ’ মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতিহাস আড়াল ও বিকৃতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। তাঁর দাবি, কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি দুই দলের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করলে ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উভয় দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার বিষয়টি দেখতে পাবেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পোস্টের শুরুতেই তিনি প্রশ্ন তোলেন—‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি কি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ?’

সোহেল তাজের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা ও ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতা এবং জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে একজন ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে উপস্থাপন করার প্রবণতা ছিল। একইসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা ও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

তবে এসব বক্তব্য সোহেল তাজের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ। ইতিহাসের বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনার ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও বিতর্ক রয়েছে।

বিএনপির বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গ টেনে সোহেল তাজ বলেন, মানুষের এই সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তবে তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইতিহাস আড়াল বা বিকৃতির ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, পাঠ্যপুস্তকেও ইতিহাসকে নতুনভাবে আড়াল বা বিকৃত করার প্রবণতা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ইতিহাসকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে রেখে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

সোহেল তাজের মতে, একটি দেশের ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্ম ইতিবাচক শিক্ষা নিতে পারে এবং সেই শিক্ষা ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভূমিকা যতটা সম্ভব নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে ইতিহাসের ঘটনাগুলোকে যথাযথ প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ইতিহাসকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে