×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রোকারেজ হাউজের ব্যর্থতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বড় ঘোষণা ডিএসইর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৪:৩৩:১৪
ব্রোকারেজ হাউজের ব্যর্থতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বড় ঘোষণা ডিএসইর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের ব্যর্থতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাদের পাওনা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, তাদের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ)। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই অর্থ পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হবে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজে মোট ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকায় সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার আওতায় আসছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো—মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও সালতা সিকিউরিটিজ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ডিএসইর ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম।

ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে এরই মধ্যে আইপিএফ থেকে প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন যেসব বিনিয়োগকারীর পাওনা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, তাদের সম্পূর্ণ অর্থ আইপিএফ থেকে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সর্বোচ্চ দুই মাস সময় লাগতে পারে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে ৫ লাখ টাকার বেশি পাওনা থাকা অবশিষ্ট ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর অর্থ আদায়ের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখা হবে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। তাদের পাওনা আদায়ে খেলাপি ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা বলেন তিনি।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি, পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রিসহ আইনসম্মত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইপিএফে জমা হওয়া অর্থ থেকেও এসব বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিচারক ও ব্যাংকারসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রয়েছেন। তাদের কারও অসুস্থতা কিংবা পরিবারের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের অর্থের উৎস সম্পর্কে ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ট্রেড কমিশন থেকে প্রতি ছয় মাসে আইপিএফে অর্থ জমা হয়। পাশাপাশি এই তহবিলে থাকা অর্থের সুদ থেকেও ফান্ড বৃদ্ধি পায়।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রোকারেজ হাউজগুলো তাদের সুদের ২৫ শতাংশ আইপিএফে জমা দিয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) ও এর সদস্যরা সমর্থন দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ডিএসই জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপও চলছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান আরও বলেন, শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব বিষয় প্রকাশ্যে আসার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তৎপর হয়েছে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি। কোনো অনিয়মের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

এ ছাড়া শেয়ারবাজারের বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিয়মিত তথ্য জানানোর লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে