×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তেলের দাম লিটার প্রতি ৫০০ টাকা করার দাবি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১০:৩১:৩৩
তেলের দাম লিটার প্রতি ৫০০ টাকা করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোটরসাইকেল চালক, রাইড শেয়ারিংকর্মী ও সাধারণ যাত্রীরা। তাদের দাবি, তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতিদিনের আয় থেকে জ্বালানি খরচ মেটাতেই বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ, খাবার, বাসাভাড়া ও পরিবারের অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বাইকার জানান, তাদের আয় খুব একটা বাড়েনি। কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন বাইক চালানোর খরচ বেড়েছে। আগে যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ করে নির্দিষ্ট একটি দূরত্বে যাত্রী পরিবহন করা যেত, এখন একই কাজে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে দিন শেষে আগের তুলনায় কম টাকা হাতে থাকছে।

বাইকারদের ভাষ্য, রাইড শেয়ারিং পেশায় শুধু তেলের খরচই নয়, মোটরসাইকেলের নিয়মিত সার্ভিসিং, ইঞ্জিন অয়েল, টায়ার, ব্রেক, যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচও রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে এসব খরচের চাপও সামগ্রিকভাবে বেড়ে যায়। অথচ যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া সবসময় একই হারে বাড়ানো সম্ভব হয় না। এতে চালকদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

তাদের কেউ কেউ বলেন, তেলের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়ানো হলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু একবারে ২০ টাকা করে দাম বাড়লে সেটি সরাসরি তাদের দৈনন্দিন আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের খরচ চালান, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, তেলের দাম বাড়লে শুধু মোটরসাইকেল চালকদের খরচই বাড়ে না, এর প্রভাব গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার খরচের ওপরও পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর।

একাধিক বাইকার জানান, প্রতিদিন রাস্তায় দীর্ঘ সময় কাজ করেও আয় থেকে কাঙ্ক্ষিত সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে না। দিনের শুরুতেই জ্বালানি কেনার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এরপর রাইডের সংখ্যা, যানজট, দূরত্ব ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় দিন শেষে প্রকৃত আয় নির্ধারণ করা হয়। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই হিসাব আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কয়েকজন চালক আক্ষেপ করে বলেন, তাদের আয় বাড়ছে না, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিবহন-সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে অনেককেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এভাবে ব্যয় বাড়তে থাকলে রাইড শেয়ারিংকে পেশা হিসেবে ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।তেলের দাম কমানোর দাবির পাশাপাশি কেউ কেউ আক্ষেপ করে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা করার কথাও উল্লেখ করেছেন।

তাদের দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে তারা তেলের দাম পুনর্বিবেচনা করে কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, জ্বালানির দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলে বাইকারদের পাশাপাশি পরিবহন খাত ও সাধারণ ভোক্তার ওপরও চাপ কিছুটা কমতে পারে।

জ্বালানি তেলের মূল্য ও সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের মধ্যে যেন একটি সামঞ্জস্য থাকে এবং অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রা যেন আরও কঠিন না হয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বাইকার ও সাধারণ মানুষের বক্তব্যে আয়-ব্যয়ের চাপ, পরিবহন খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তারা সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে