×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে হু হু করে কেন বাড়ছে এআই চশমার চাহিদা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২২:৫৪:০৪
ভারতে হু হু করে কেন বাড়ছে এআই চশমার চাহিদা

ডেস্ক রিপোর্ট: একসময় চশমার প্রধান কাজ ছিল দৃষ্টিশক্তির সহায়তা করা কিংবা সূর্যের তীব্র আলো থেকে চোখ রক্ষা করা। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সেই চশমাই এখন হয়ে উঠেছে বহুমুখী ডিভাইস। গান শোনা, ছবি ও ভিডিও ধারণ, কল করা এমনকি মানুষ শনাক্ত করার মতো কাজও এখন স্মার্ট চশমার মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে মেটার তৈরি এআই গ্লাস বাজারে আসার পর এর প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মানুষের অজান্তে ছবি বা ভিডিও ধারণের সুযোগ থাকায় এ ধরনের চশমা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মেটা এআই গ্লাস মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমৃদ্ধ একটি স্মার্ট চশমা। মেটা ও রে-ব্যান যৌথভাবে এই ডিভাইস তৈরি করেছে। প্রযুক্তি খাতের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও এ ধরনের পণ্যের প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। রিলায়েন্স ও স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী।

সাধারণত এসব চশমায় আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে উচ্চ রেজলিউশনের ছবি ধারণ করা যায়। কিছু মডেলে ফেস রেকগনিশন সুবিধাও রয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তির ছবি ধারণ করে এআইয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় বা সংশ্লিষ্ট তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করে এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেওয়াও সম্ভব।

স্মার্ট চশমাগুলোতে ওপেন-ইয়ার ব্লুটুথ স্পিকার ও একাধিক মাইক্রোফোন থাকে। ফলে ব্যবহারকারী গান শুনতে এবং ফোনকল গ্রহণ করতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, একবার চার্জ দিলে এসব চশমা সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

এই প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো হাত ব্যবহার না করেই বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা। কেবল ভয়েস কমান্ড কিংবা ইশারার মাধ্যমে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, লাইভ স্ট্রিমিং এবং মেসেজ বা কল আদান-প্রদান করা যায়। তবে এই সুবিধাই অনেক সময় আশপাশের মানুষের জন্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মেটা এআই গ্লাস ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে চশমার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

এই চশমার শিকার যারা

এ ধরনের স্মার্ট চশমার মাধ্যমে নিজেদের অজান্তে ছবি বা ভিডিও ধারণের শিকার হয়েছেন—এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধারণ করা এসব ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব পোস্ট ঘিরে ভুক্তভোগীদের অনলাইনে ব্যাপক ট্রলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।

ভুক্তভোগীদের একজন কলকাতার ৩৫ বছর বয়সি কলেজশিক্ষিকা বিদিশা। তিনি প্রকাশ্যে শুধু নিজের প্রথম নাম ব্যবহার করেন।

বিদিশার অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতে এ ধরনের ঘটনায় এটিই প্রথম পুলিশি মামলা।

বিদিশার সঙ্গে যা ঘটেছিল

বিদিশার ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ জুন সন্ধ্যায় শহরের একটি কম আলোযুক্ত রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় এক ব্যক্তি তার পথরোধ করে। প্রথমে ওই ব্যক্তি তার প্রশংসা করেন এবং তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট জানতে চান। পরে কথা বলার জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিদিশা এতে আগ্রহ না দেখালেও লোকটি তার পিছু নেওয়া অব্যাহত রাখে।

বিদিশা জানান, লোকটির হাতে এমন কোনো ক্যামেরা বা ডিভাইস তিনি দেখতে পাননি, যা দেখে তার মনে হতে পারে যে ওই ব্যক্তি কোনো কিছু রেকর্ড করছেন।

পরদিন বিদিশার এক শিক্ষার্থী তাকে জানান, আগের রাতের ঘটনাটির একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।

এরপর বিদিশা বুঝতে পারেন, ওই ব্যক্তি গোপনে তাদের পুরো কথোপকথন ধারণ করেছিলেন। পরে ভিডিওটি এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়, যাতে দেখে মনে হয় বিদিশা স্বেচ্ছায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন।

ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে অনেক পুরুষ বিদিশার চেহারা ও শারীরিক গঠন নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। পরে বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি একটি স্মার্ট গ্লাস বা প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ চশমা ব্যবহার করেছিলেন।

আগস্টে জনসমক্ষে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন বিদিশা। এক তরুণ হাতে ফোন নিয়ে তার দিকে এগিয়ে এলে তিনি আশঙ্কা করেন, আবারও গোপনে তার ভিডিও ধারণ করা হতে পারে। এরপর তিনি পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে এফআইআর করতে পুলিশ আগ্রহ দেখায়নি।

কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে পথ আটকে দেওয়া, গোপনে নজরদারি বা পিছু নেওয়া এবং স্টকিংয়ের মতো অভিযোগ আনা হয়।

তদন্তকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এফআইআর দায়েরের কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এক দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার পর তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

দিল্লিতেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ২৯ বছর বয়সি এক ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি। এপ্রিল মাসে তার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। ‘ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ‘স্কাই’ নামের ওই ব্যক্তি দিল্লির যন্তরমন্তরে গিয়েছিলেন। সেখানে তার অজান্তে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভারতে দাম বেশি, তবু বাড়ছে চাহিদা

ভারতের বাজারে বর্তমানে মেটার এই চশমার জেনারেশন ১ ও জেনারেশন ২—দুই সংস্করণই পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন বিক্রেতার তথ্য অনুযায়ী, জেনারেশন ২-এর দাম ভারতে শুরু হচ্ছে ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা থেকে। ফ্রেমসহ এর দাম সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, ছাড়ের পর জেনারেশন ১-এর দাম ২২ হাজার থেকে ২৭ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে ভারতের বাজারে মেটা এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিক্রয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ফলে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ঠিক কত জোড়া চশমা বিক্রি হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য সংখ্যা জানা যায়নি। তবে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরের দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে দুই প্রজন্মের চশমারই উল্লেখযোগ্য চাহিদার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এ কারণে মোট বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে অনলাইনে এই চশমা ব্যবহারকারীদের অসংখ্য রিভিউ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনা থেকে ভারতের বাজারে মেটার স্মার্ট চশমার প্রতি উল্লেখযোগ্য আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

‘এই চশমা ব্যবহারে ঝুঁকি অনেক’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ অরিজিৎ মুখার্জীর মতে, এ ধরনের ঘটনা ঠেকানোর মতো কার্যকর প্রযুক্তি এখনো তৈরি হয়নি। তার মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে—এই চশমাগুলো দেখতে প্রায় সাধারণ চশমার মতো হওয়ায় দূর থেকে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন।

চশমায় রেকর্ডিং শুরু হলে যে এলইডি আলো জ্বলে, সেটির উজ্জ্বলতা খুব কম। দিনের আলোতে সেটি প্রায় চোখেই পড়ে না। এমনকি অনলাইনে এমন কিছু স্টিকারও পাওয়া যায়, যেগুলো রেকর্ডিংয়ের সময় ওই আলো ঢেকে দিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, রেকর্ডিং চলাকালে ওই আলো জ্বলে থাকে। তবে অরিজিৎ মুখার্জীর দাবি, প্রায় ছয় মাস আগেই বিশেষজ্ঞরা সেটি নিষ্ক্রিয় বা আড়াল করার উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

মেটা গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি করলেও অরিজিৎ মুখার্জীর বক্তব্য, মেটার এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত ছবি ও ভিডিওর মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তিগত ভিডিওও থাকতে পারে, যেগুলো এই চশমার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অজান্তে ধারণ করা হয়েছে।

মেটা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও একাধিক বিজ্ঞানী এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রমাণ পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কিঞ্জল কান্তি ঘোষ মনে করেন, সাধারণ মানুষের জন্য এই চশমার ব্যবহারিক সুবিধার চেয়ে সম্ভাব্য ক্ষতির দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সরকারের উচিত বিষয়টি নজরে রেখে এ ধরনের ডিভাইসের ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।

তার ভাষ্য, কারও অনুমতি ছাড়া ছবি ধারণ কিংবা তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা সাইবার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, চশমার মাধ্যমে ধারণ করা ছবি শুধু ব্যবহারকারীর কাছেই থাকে না; এটি যেহেতু মেটার তৈরি ডিভাইস, তাই সেগুলো মেটার কাছেও সংরক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তার মতে, এ ধরনের ডিভাইসের অপব্যবহারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো ভিআইপির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে কেউ যদি এই চশমা ব্যবহার করে পুরো আয়োজন রেকর্ড করেন, সেই ফুটেজ পরবর্তী সময়ে অপব্যবহার হতে পারে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

কিঞ্জল কান্তি ঘোষের মতে, ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও পরিচয় শনাক্ত করার পর তার পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তার বক্তব্য, এসব ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত প্রযুক্তি এখনো নেই। এমনকি সিনেমা হলে পুরো সিনেমা রেকর্ড করে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে, যেখানে স্বত্ব সংরক্ষণ ও ক্ষতির বিষয়টি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

গোপনে রেকর্ডিং ঠেকাতে ভারতে আইন কী বলছে

প্রযুক্তিবিষয়ক আইনজীবী ও ইন্টারনেটভিত্তিক নাগরিক অধিকারকর্মী মিশি চৌধুরীর মতে, এ ধরনের গোপন ভিডিও ধারণের জন্য ভারতে সরাসরি প্রযোজ্য নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।

তিনি বলেন, কারও অজান্তে এভাবে ভিডিও ধারণ করা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও প্রচলিত আইনে এটিকে সরাসরি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।

তার মতে, ভিডিওতে ধারণ করা ঘটনার ধরন অনুযায়ী মানহানি, অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে দেখা বা সংরক্ষণ, স্টকিং এবং অপরাধমূলক হুমকির মতো অভিযোগ আনা যেতে পারে। তবে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কারও অজ্ঞাতে ভিডিও ধারণ করলে সেটি নির্দিষ্টভাবে কোন আইনের আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে ভারতীয় আইনে স্পষ্টতা নেই।

সামাজিক মাধ্যম থেকে ভিডিও সরানোও কঠিন

কারও অজান্তে ধারণ করা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা বেশ কঠিন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মেটার নীতিমালায় হয়রানি বা উত্যক্ত করার বিষয়টি নিষিদ্ধ হলেও ইনস্টাগ্রামে কোনো পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সময় গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণের মতো ঘটনার জন্য পৃথক কোনো অভিযোগের ক্যাটাগরি নেই।

ফলে ভুক্তভোগীদের ‘বুলিং অ্যান্ড হ্যারাসমেন্ট’ বা উত্যক্তকরণ ও হয়রানির ক্যাটাগরির অধীনেই অভিযোগ জানাতে হয়।

বিদিশাকে কেন্দ্র করে তৈরি ভিডিওটি দুই মাসেরও বেশি সময় অনলাইনে ছিল। ওই সময়ের মধ্যে ভিডিওটি ২৫ লাখবার দেখা হয়। তার বন্ধুরা ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি সরানোর জন্য অভিযোগ করলেও সেটি প্ল্যাটফর্মের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে—এমন দাবি সত্ত্বেও ভিডিওটি সরানো হয়নি।

পরে বিদিশা পুলিশের কাছে যাওয়ার পর পুলিশ ভিডিওটি তৈরি করা ব্যক্তিকে সেটি সরিয়ে নিতে বলে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিওটি মুছে দেন।

গোপনীয়তা রক্ষায় মেটার বক্তব্য

ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার দাবি, এআই চশমা তৈরির শুরু থেকেই ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

মেটার এক মুখপাত্র জানান, প্রতিটি চশমায় একটি রেকর্ডিং এলইডি লাইট রয়েছে। ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় ওই বাতি জ্বলে ও নিভে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর উজ্জ্বলতাও পরিবর্তিত হয়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, চশমায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পরে সংরক্ষণ কিংবা শেয়ার করা যায়। রেকর্ডিংয়ের সংকেত দেওয়া এই বাতি বন্ধ করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। কেউ সেটিকে ঢেকে দিলে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত করলে ক্যামেরা কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

জুলাইয়ে ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি বলেছিলেন, কোনো ভিডিওর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি বা অপদস্থ করা হলে সেটি সরিয়ে দেওয়া হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গোপনে অন্য ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে তাদের হয়রানি করা এবং পরে সেই ভিডিও প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের ঘটনা মেটা সমর্থন করে না।

এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন হাজার হাজার ভিডিও ও পোস্ট তারা ইতোমধ্যে সরিয়ে দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এ ধরনের ভিডিওর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সার্চ টার্ম ও হ্যাশট্যাগও তারা ব্লক করেছে। এর মধ্যে ‘রিজ’, ‘পিক-আপ আর্টিস্ট’ এবং ‘কোল্ড অ্যাপ্রোচ’-এর মতো জেন-জি প্রজন্মের ব্যবহৃত শব্দও রয়েছে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে