×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তিন গণমাধ্যমের মামলা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২২:৩২:০১
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তিন গণমাধ্যমের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তিনটি মার্কিন গণমাধ্যম—সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো। হোয়াইট হাউস চত্বরে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মামলাটি করা হচ্ছে।

সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো জানিয়েছে, মামলা দায়েরের বিষয়টি তারা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। কলাম্বিয়া জেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলাটি করা হবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে জরুরি শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে তিন গণমাধ্যম অভিযোগ করেছে, কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হোয়াইট হাউস তাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করেছে। তাদের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশাসনের আপত্তির কারণেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ না করা হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া সাংবাদিকতার অধিকার গুরুতরভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

গণমাধ্যম তিনটি বলেছে, সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় তাদের অধিকার সুরক্ষিত করা এবং সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে বা কীভাবে প্রতিবেদন করবে, সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না—এই মৌলিক নীতি প্রতিষ্ঠাই মামলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

এর আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হোয়াইট হাউসে তিন গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রথম জানান ট্রাম্প। সোমবার মামলার ঘোষণা আসার পর নতুন এক পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, হোয়াইট হাউস মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করছে না; বরং ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তার অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সর্বব্যাপী, সমন্বিত এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ ও কার্যক্রম কভার করার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কমানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সহানুভূতিশীল হিসেবে বিবেচিত কিছু নতুন সংবাদমাধ্যমকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক মামলা করেছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসের কয়েকটি কর্মসূচি কভার করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের। তবে এসব কর্মসূচির কোনো টেলিভিশন ফুটেজ সাধারণ মানুষের জন্য সরবরাহ করা হবে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার নথিতে তিন সংবাদমাধ্যম বলেছে, হোয়াইট হাউসের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক এবং এটি দ্রুত স্থগিত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইতোমধ্যেই এমন কিছু সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে বাধা তৈরি হয়েছে, যার ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট তিনটি গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব ফেলছে না; বরং পুরো সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ, কোনো সংবাদমাধ্যম প্রেসিডেন্টের কাছে যথেষ্ট অনুকূল নয় বলে বিবেচিত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া ঠেকাতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ চেয়েই আদালতে মামলাটি দায়েরের উদ্যোগ নিয়েছে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে