×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তদন্তের মুখে ১৭ মাসে ৩৫১ শতাংশ বাড়লো ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২২:১০:৪৮
তদন্তের মুখে ১৭ মাসে ৩৫১ শতাংশ বাড়লো ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্ধারিত কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ না করেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর প্রায় ১৭ মাসে ৩৫১ শতাংশ বেড়েছে। অস্বাভাবিক এই দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পৃথক তদন্ত পরিচালনা করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ২৮ টাকা ৪০ পয়সা। সেখান থেকে ৯৯ টাকা ৮০ পয়সা বা ৩৫১ শতাংশ বেড়ে ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তা ১২৮ টাকা ২০ পয়সায় গিয়ে পৌঁছায়।

নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সূত্র জানায়, বিএসইসির করা তদন্ত প্রতিবেদনটি এখন 'এনফোর্সমেন্ট' পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি ডিএসই-র সাম্প্রতিক তদন্তেও বড় ধরনের কারসাজির আলামত ধরা পড়েছে। তবে বিএসইসি বা ডিএসই—কোনো সংস্থাই এখনো শেয়ারবাজারের এই কারসাজির জন্য কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ফলে তদন্তের তথ্যগুলো এখনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অধীন রয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলেও শেয়ারের দাম যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় মুনাফার প্রবৃদ্ধি সেভাবে হয়নি। এই ছয় মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৪১ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৩০ পয়সা। অথচ ২১ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির সমাপনী মূল্য ছিল ১২৮ টাকা ২০ পয়সা, যা এনএভির তুলনায় প্রায় ৪.৯ গুণ বেশি। এর আগে ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৩ টাকা ৪০ পয়সা ইপিএস দেখিয়ে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল।

১৯৯৬ সালে গঠিত 'এ' ক্যাটাগরির এই নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটি ২০০৭ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৬.০৬ শতাংশ স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে এবং ৩৮.৫৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৫.৩৪ শতাংশ শেয়ার। গত জুলাইয়ে একটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থা কোম্পানিটিকে 'AAA' রেটিং দিয়েছে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে