×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর চিরকুট নিয়ে যা বললেন গবেষক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৮:৪৯:৩১
এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর চিরকুট নিয়ে যা বললেন গবেষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। চিরকুটগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চিরকুটের হাতের লেখা মরিয়ম খাতুনের নিজের কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে চিরকুটগুলোর হাতের লেখার প্রাথমিক বিশ্লেষণ করেছেন হস্তাক্ষর বিশ্লেষক ও ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট মো. মিরাজ হোসেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কালবেলা অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, চিরকুটগুলোর লেখার ধরনে কিছু পার্থক্য দেখা গেলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অন্য কারও লেখা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তার মনে হয়েছে। তবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে মরিয়মের আগের হাতের লেখার নির্ভরযোগ্য নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সাইন্সেসের পরিচালক মিরাজ হোসেন জানান, তিনি প্রকাশ্যে আসা চিরকুটগুলো দেখেছেন। এর মধ্যে একটি চিঠিতে ১২ জুলাইয়ের তারিখ রয়েছে। কালো ও লাল কালিতে লেখা অংশের মধ্যে লেখার ধরনে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একই ব্যক্তির হাতের লেখায় সময়, পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। জুলাইয়ের লেখাগুলো তুলনামূলকভাবে সোজা এবং কোথাও কোথাও কাটাকাটি ও ওভাররাইটিংয়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্য একটি চিরকুটের লেখায় লম্বা দাগ টানা এবং শেষের দিকে অক্ষরের আকার কিছুটা বড় হওয়ার বিষয়টিও তিনি লক্ষ্য করেছেন। এসব বৈশিষ্ট্য লেখার সময়কার আবেগ বা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তার মত। তবে শুধু হাতের লেখার ধরন বিশ্লেষণ করে কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

কালো ও লাল কালির লেখার পার্থক্য প্রসঙ্গে মিরাজ হোসেন বলেন, দুই ধরনের লেখার মধ্যে অমিল রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এগুলো অন্য কারও লেখা হওয়ার সম্ভাবনা কম মনে হয়েছে। শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরিয়ম খাতুনের আগের সময়ের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করে চিরকুটের লেখার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তুলনা করতে হবে।

কালো কালির লেখায় ‘আর্কেড কানেকশন’ বা অক্ষরগুলোর ওপরের দিকে সংযোগের বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে লেখার বাম পাশের মার্জিন বা শুরুর অবস্থানেও কিছু অসামঞ্জস্য দেখা গেছে বলে জানান তিনি।

মিরাজ হোসেনের মতে, হাতের লেখায় এ ধরনের পরিবর্তন লেখার সময়কার পরিস্থিতি বা আচরণগত অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থা বা আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

ফরেনসিকভাবে চিরকুটগুলো মরিয়ম খাতুনেরই লেখা কি না, তা নির্ধারণের জন্য তার আগের লেখা, স্বাভাবিক অবস্থায় লেখা নমুনা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নমুনার সঙ্গে তুলনা করা জরুরি। সেই তুলনামূলক পরীক্ষার ফলই এ বিষয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ধারণা দিতে পারে।

অর্থাৎ, চিরকুটগুলোর হাতের লেখায় পার্থক্য থাকলেও শুধু সেই পার্থক্যের ভিত্তিতে এগুলো ভিন্ন ব্যক্তির লেখা—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য নমুনা সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক ফরেনসিক হস্তাক্ষর পরীক্ষা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে