ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

৭ ধরনের আয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে

২০২৬ আগস্ট ২২ ১১:৪৫:৩০
৭ ধরনের আয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আয়কর রিটার্ন নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা ধরনের বিভ্রান্তি। বিশেষ করে কোন ধরনের আয় থাকলে রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং রিটার্ন দিলেই কর দিতে হবে কি না—এ নিয়ে অনেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখেন না।

আয়কর রিটার্ন হলো করদাতার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে দাখিল করা নির্ধারিত বিবরণী। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষে ১ জুলাই থেকে রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন নিয়মে বছরজুড়েই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা প্রযোজ্য বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার সুযোগও পান।

একজন করদাতার আয় সাধারণত কয়েকটি নির্ধারিত খাতে ভাগ করে রিটার্নে দেখাতে হয়। এসব খাতের আয় ইচ্ছামতো উল্লেখ করা যায় না; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে আয়-ব্যয়ের তথ্য দিতে হয়।

১. চাকরি থেকে আয়

চাকরি করে পাওয়া বেতন, ভাতা, বোনাস ও চাকরিসংক্রান্ত অন্যান্য প্রাপ্তি এই খাতের আয়ের মধ্যে পড়ে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পাওয়া বেতন বিবরণী, বেতন সনদসহ সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে এসব আয় রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়।

২. ভাড়া থেকে আয়

বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, অফিস বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় হলে তা রিটার্নে দেখাতে হয়।

সম্পত্তির মালিকের ভাড়ার আয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভাড়ার চুক্তিপত্র, ব্যাংক লেনদেনসহ প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. কৃষি থেকে আয়

কৃষিকাজ, ফসল উৎপাদন, পশুপালন বা কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয় এই খাতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

কৃষি থেকে আয় থাকলে সংশ্লিষ্ট আয় ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করে রিটার্নে তা যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হয়।

৪. ব্যবসা থেকে আয়

ব্যবসা, পেশা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয়ও রিটার্নে দেখাতে হয়।

দোকান, প্রতিষ্ঠান, অনলাইন ব্যবসা, পেশাগত সেবা কিংবা অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে আয় হলে তার হিসাব রাখতে হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করাও জরুরি।

৫. মূলধনি আয়

কোনো সম্পদ বা বিনিয়োগ বিক্রি করে লাভ হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা মূলধনি আয়ের আওতায় পড়তে পারে।

জমি, বাড়ি, শেয়ার বা অন্যান্য মূলধনি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই এ ধরনের লেনদেনের কাগজপত্র সংরক্ষণ করা উচিত।

৬. আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়

ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, বিভিন্ন সিকিউরিটিজ বা আর্থিক বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় এই খাতের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে আয় থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সনদ বা বিবরণীর ভিত্তিতে রিটার্নে তথ্য দিতে হয়।

৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়

রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী, বিভিন্ন ধরনের ফি এবং নির্ধারিত অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া আয় এই শ্রেণিতে পড়তে পারে।

কোনো নির্দিষ্ট আয়ের ধরন ওপরের ছয়টি খাতের মধ্যে না পড়লে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তা অন্যান্য উৎসের আয় হিসেবে রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এই সাতটি খাতের কোনো একটি থেকে আয় থাকলেই যে অবশ্যই আয়কর দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়।

রিটার্ন দাখিল করা এবং আয়কর দেওয়া এক বিষয় নয়। একজন ব্যক্তির আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে তার রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।

অন্যদিকে করযোগ্য আয় থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হতে পারে।

করমুক্ত আয়সীমা কত?২০২৬-২৭ করবর্ষের প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ পুরুষ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা। গেজেটেড যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া কোনো করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পিতা, মাতা বা আইনগত অভিভাবকের করমুক্ত আয়সীমায় অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শুধু টিআইএন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে?টিআইএন বা কর শনাক্তকরণ নম্বর থাকলেই যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে একই কারণে রিটার্ন দিতে হবে—বিষয়টি এত সরল নয়। তবে আয় ও ব্যক্তির নির্দিষ্ট অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।

করমুক্ত সীমার বেশি আয় হলে সাধারণত রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হয়। আবার আয় কম হলেও আইনে নির্ধারিত কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

যেমন—আগের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে, কোনো ফার্মের অংশীদার হলে, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী হলে কিংবা সরকারি কর্মচারী হলে নির্ধারিত শর্তে রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে।

এ ছাড়া আইন অনুযায়ী আরও কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আয় কম হলেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।

তাই শুধু আয় কত টাকা—এটি দেখেই রিটার্ন দিতে হবে কি না সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তির আয়, পেশা, সম্পদ, পূর্ববর্তী কর-সংক্রান্ত অবস্থা এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের আগে নিজের আয় কোন কোন খাত থেকে এসেছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক—তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে