ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

বায়োমেট্রিক হাজিরার পর এবার জিও-ফেন্সিং

২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৩:২৫:১৪
বায়োমেট্রিক হাজিরার পর এবার জিও-ফেন্সিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বায়োমেট্রিক হাজিরার পাশাপাশি জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মীরা নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিত আছেন কি না, তা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উপস্থিতির তথ্য বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশনা থাকায় কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি মাসে সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল কর্মদক্ষতার ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আগামী ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি পর্যায়ক্রমে শতভাগ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে কেবিন ফি পুনর্মূল্যায়ন বা যৌক্তিকীকরণের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে যাতে দরিদ্র রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।হাসপাতালে আদায় করা ফি থেকে একটি অংশ অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে সেবার মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা যাবে।

একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত, রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের আয়-ব্যয়, ওষুধের মজুত ও আর্থিক কার্যক্রমে আরও কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর



রে