ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

২০০৬ সালের ভিসা নীতি বদলে যাচ্ছে, নতুন খসড়ায় যা যা থাকছে

২০২৬ আগস্ট ১৮ ০৭:৫৮:১৩
২০০৬ সালের ভিসা নীতি বদলে যাচ্ছে, নতুন খসড়ায় যা যা থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বিদেশিদের প্রবেশ ও অবস্থানসংক্রান্ত নিয়ম আরও আধুনিক ও সুনির্দিষ্ট করতে নতুন ‘ভিসা পলিসি ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০০৬ সালে প্রণীত বর্তমান ভিসা নীতিমালার পরিবর্তে নতুন এই নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় ভিসার শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পাশাপাশি ব্যবসা, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, এনজিও, শিক্ষা-গবেষণা, চিকিৎসা, পর্যটন, ট্রানজিট ও ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়ায় মোট ৩৪টি ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো বিদেশিদের প্রবেশ ও বহির্গমন প্রক্রিয়া সহজ ও শৃঙ্খলিত করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা আকৃষ্ট করা, দক্ষ জনশক্তির প্রবেশ সহজ করা এবং পর্যটন ও প্রযুক্তি-জ্ঞান বিনিময়কে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মন্ত্রিসভা খসড়াটি পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় ‘E’ ক্যাটাগরিকে আরও নির্দিষ্ট করে E1, E2 ও E3 করার প্রস্তাব রয়েছে।

E1: উন্নয়ন সহযোগীদের জন্য

E2: বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের জন্য

E3: বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি পেশাজীবীদের জন্য

এসব ক্যাটাগরির নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্যও আলাদা FE1, FE2 ও FE3 ক্যাটাগরি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের জন্য B ক্যাটাগরি বহাল থাকছে। তবে প্রতি ভ্রমণে অবস্থানের সময় বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিন করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া বহুভ্রমণ সুবিধাসহ সর্বোচ্চ এক বছরের ভিসা এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করে বাংলাদেশে চাকরি করার সুযোগ থাকবে না।

এনজিও ও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিদ্যমান ‘N’ ক্যাটাগরিকে ভাগ করে N1 ও N2 করার প্রস্তাব রয়েছে।

N1 হবে বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওতে কাজের জন্য এবং N2 হবে জরুরি মানবিক সেবা ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের জন্য।

গবেষকদের জন্য R এবং শিক্ষার্থীদের জন্য S ক্যাটাগরি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য FSR নামে একটি সমন্বিত ক্যাটাগরিও প্রস্তাব করা হয়েছে।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসা বিদেশিদের জন্য নতুন MT (Medical Tourism) এবং সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য MA (Medical Attendant) ক্যাটাগরি রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

এতে চিকিৎসা নিতে বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিক ও তাদের সহযোগীদের জন্য আলাদা ভিসা কাঠামো তৈরি হবে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী এবং তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের জন্য FBN নামে নতুন ক্যাটাগরি প্রস্তাব করা হয়েছে।

ক্রুদের জন্য C ক্যাটাগরিতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। অন্যান্য ক্রু সদস্যদের প্রতি দফায় সর্বোচ্চ অবস্থানের সময় ৭ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৫ দিন করার কথা বলা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সর্বোচ্চ সময়ও তিন বছর থেকে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে।

সাংবাদিকদের জন্য J এবং চুক্তিভিত্তিক পারফর্মারদের জন্য P ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। তবে এসব ভিসার মেয়াদ ও মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু বিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়া নীতিমালার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো—আগের তুলনায় ভিসার উদ্দেশ্যগুলোকে আরও নির্দিষ্টভাবে ভাগ করা। সরকারি তথ্য ও প্রকাশিত খসড়ার বিবরণ অনুযায়ী এতে ৩৪টি ক্যাটাগরি রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও কূটনৈতিক কার্যক্রম, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, এনজিও, মানবিক সেবা, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, পরিবার, পর্যটন, ট্রানজিট, চিকিৎসা, ক্রু ও ধর্মীয় কার্যক্রম।

‘ভিসা পলিসি ২০২৬’ নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ২০০৬ সালের নীতিমালার দীর্ঘদিন পর একটি বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বর্তমানে এটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সংশোধন হতে পারে। জুলাই ২০২৬-এ সরকার খসড়াটি পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে