ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা, ঋণ নিয়ে এলো বড় সুখবর

২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৬:৪৫:৫৮
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা, ঋণ নিয়ে এলো বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এ ক্ষেত্রে মোট ঋণের অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের নিয়ম ছিল।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে কৃষি খাতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করতে হবে।

এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হলো কৃষি খাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।নতুন নীতিমালায় কৃষকদের ঋণ পাওয়া সহজ করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি জামানত দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলবদ্ধ জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এর ফলে জমি বা মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি জামানত দেওয়ার সক্ষমতা নেই—এমন বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত কৃষক যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহার করা যাবে।

এতে প্রকৃত কৃষকদের ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ হওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।নতুন নীতিমালায় কৃষি ঋণের আওতায় বেশ কিছু নতুন কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—মাছের হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, উট পালন,ব্লুবেরি চাষ, শিমুল মূল উৎপাদন, অশ্বগন্ধা চাষডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার উৎপাদন এ ছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলের বিভিন্ন আয়-উৎসারি কর্মকাণ্ডেও দলবদ্ধভাবে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা দলের সদস্যসংখ্যার সীমাও শিথিল করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন নীতিমালায় কৃষকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই বিমা সুবিধা দেওয়া যাবে। এতে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি বা অন্যান্য জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়তা মিলতে পারে।

কৃষি ঋণ বিতরণ ও এর ব্যবহার আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ওয়েব বেসড এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও ঋণ কার্যক্রমের তদারকি জোরদার হলে কৃষি ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা এবং ঋণ বিতরণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, নতুন নীতিমালার ফলে কৃষি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে কৃষি ঋণ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে