ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

মন্ত্রিসভায় রদবদল, বদলে যেতে পারে যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

২০২৬ আগস্ট ১৬ ১০:২৯:৪৭
মন্ত্রিসভায় রদবদল, বদলে যেতে পারে যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার কার্যক্রম মূল্যায়ন করে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা। প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ায় দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদেও পরিবর্তনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। ফলে একই সময়ে দল ও সরকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে পরিবর্তন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চার নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী ২০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে বিএনপির নতুন মহাসচিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সময় মন্ত্রিসভায়ও রদবদল বা পরিবর্তন হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে মনোনীত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তাদের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সদস্যদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। পরবর্তী সময়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, বিএনপির দপ্তর সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আমান উল্লাহ আমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পর তিনি দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হন।

প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার একজন চিকিৎসক এবং বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি। তিনি বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক ও পেশাজীবী কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বিএনপির মিডিয়া সেল, নির্বাচন পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণী কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এরপর বিভিন্ন সময়ে সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ নানা কারণে স্থায়ী কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। এবার একসঙ্গে চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব?মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করার পর বিএনপির মহাসচিব পদটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন মহাসচিব হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম।

দলের একাধিক নেতাকর্মীর মধ্যে রিজভীকে নিয়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নেবেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য তালিকায় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, মহাসচিব পদ শূন্য হলে কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন মহাসচিব নির্বাচন করা হতে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নসংক্রান্ত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন এবং নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এছাড়া সম্ভাব্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রকিবুল ইসলাম বকুল ও গিয়াসউদ্দীন রিমনের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় নতুন করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং শরিক দলের নেতা আন্দালিব রহমান পার্থসহ কয়েকজনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

তবে এসব পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, কার দায়িত্ব বদল হচ্ছে এবং কারা নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন—সেটি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

দল ও সরকারে সম্ভাব্য পরিবর্তনের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। একইভাবে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য সংগঠনেও নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন, স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠন, নতুন মহাসচিব নির্বাচন এবং মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল—এই চারটি বিষয় এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে