ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মার্জিন ঋণের মাপকাঠি হিসেবে সর্বোচ্চ পিই রেশিও ৪০

২০২৬ আগস্ট ১৫ ১৬:৫৯:৪২
মার্জিন ঋণের মাপকাঠি হিসেবে সর্বোচ্চ পিই রেশিও ৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বিদ্যমান বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধিত বিধিমালায় জীবন বীমা খাত ছাড়া অন্যান্য সব খাতের শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে সর্বোচ্চ মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি বা ফোর্স সেলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধনের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করে গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠিয়েছে কমিশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত বিধিমালায় সাধারণ সিকিউরিটিজের জন্য মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব ইক্যুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে পিই রেশিওকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ব্যাংক, নন-লাইফ বীমা এবং অন্যান্য খাতের কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পিই রেশিও ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। তবে জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে পিই রেশিওর পরিবর্তে ব্যতিক্রম হিসেবে প্রাইস-টু-বুক বা পিবি রেশিও প্রযোজ্য হবে।

নতুন বিধিমালায় প্রথমবারের মতো ট্রেইলিং পিই রেশিও ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্যকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আগের ১২ মাসে অর্জিত শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসের সঙ্গে তুলনা করে পিই রেশিও নির্ধারণ করা হবে। কোনো কোম্পানি নতুন ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সেই প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে পিই রেশিও হালনাগাদ করতে হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন কল এবং শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আগাম নোটিশ বা মার্জিন কল দেবে। এরপর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।

এর আগে বিধিমালার প্রাথমিক খসড়ায় পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৭০ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন কল এবং ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছিল। চূড়ান্ত খসড়ায় সেই সীমা আরও শিথিল করে যথাক্রমে ৫০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। একইভাবে এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজও মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে থাকবে।

শুধু স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারের ক্ষেত্রেই মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে