ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, তেলের বাজারে নতুন চাপ

২০২৬ আগস্ট ১২ ১১:৩২:২৯
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, তেলের বাজারে নতুন চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু নিয়ে আলোচনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এদিন অক্টোবরের সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

তেলের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে জাহাজে হামলার ঘটনা যুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে তেলের দামের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়ামও বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চললেও দ্রুত কোনো সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সেই আশাবাদ অনেকটাই কমে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে এবং সমঝোতার শর্তগুলো আরও জটিল হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু তেলের দাম নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে।

বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেশি। দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।

তেলের বাজারের দিকনির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শান্তি বা সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। এতে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে এবং তেলের দামও কিছুটা নিচে নামার সুযোগ পেতে পারে।

অন্যদিকে আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে কিংবা নতুন করে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজারে ঝুঁকি আরও বাড়বে। সাম্প্রতিক সময়ে ঠিক এই আশঙ্কাতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতার দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। ওমান ও ইরানের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলেছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে আলোচনার ফল কী হবে এবং প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল কবে ফিরবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে নতুন করে জাহাজে হামলা হলে কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বাধাগ্রস্ত হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলারের ওপরে স্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে কূটনৈতিক আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতেও পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার স্পষ্ট সংকেত পাওয়া গেলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমবে এবং তেলের দামে চাপও কিছুটা কমতে পারে।

এ কারণে আপাতত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের নজর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতির দিকে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে