ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

ফোন ধরেন না ডিসি, শুধু বলেন "টেক্সট মি"

২০২৬ আগস্ট ০৪ ২১:২৬:০৭
ফোন ধরেন না ডিসি, শুধু বলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের ফোন কল এড়িয়ে যাওয়া এবং ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনাগ্রহের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। জেলার নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বক্তব্য নিতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও অধিকাংশ সময় ফোন না ধরে "Please text me" লিখে জবাব দেন তিনি—এমনটাই দাবি জেলার একাধিক সাংবাদিকের। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সময় টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশাহ সৈকত ডিসি কার্যালয়ে গিয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় তাকে, তবু বক্তব্য মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার ভাষ্যমতে, পাঁচ বছর ধরে আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে ডিসির বক্তব্য চাইতে গিয়েছিলেন তিনি। বক্তব্য না দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে ডিসি জানান, তিনি বা তার প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলবেন না।

পরবর্তীতে ওই সাংবাদিক তার ফেসবুক পাতায় লেখেন, কী গোপন কারণে কুড়িগ্রামের ডিসি সাংবাদিকদের সঙ্গে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি নন, তা জানতে চায় দেশবাসী।

শুধু বাদশাহ সৈকতই নন, বরং এই ডিসি যোগদানের পর থেকে জেলায় কর্মরত কোনো সাংবাদিকের সঙ্গেই ক্যামেরার সামনে কথা বলেননি তিনি। এমনকি তার অনুমতি ছাড়া ইউএনওসহ প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাই ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেন না—যেন সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাদের কোনো জবাবদিহিতাই নেই।

ডিবিসি নিউজের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান তুহিনের ভাষ্য, জেলার উন্নয়ন বা সংকট-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য বক্তব্য চাইলেই বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান জেলা প্রশাসক।

এসএ টিভির প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ মন্তব্য করেন, ধারাবাহিকভাবে কয়েকজন নারী জেলা প্রশাসক পাওয়া গেছে এই জেলায়, এবং তার দাবি অনুযায়ী প্রায় সবাই একই আচরণ করেছেন বলে তিনি মনে করেন জেলার উন্নয়নে নারী প্রশাসকরাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলামের বক্তব্য, জেলা প্রশাসক জনগণের সেবক, আর জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—গণমাধ্যম সেই জনগণেরই প্রতিনিধিত্ব করে। তার মতে, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার অর্থ জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়া।

দেশ টিভির প্রতিনিধি জুয়েল রানা জানান, বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোন করলে অধিকাংশ সময়ই ডিসি ফোন না ধরে "Please text me" লিখে বার্তা পাঠান।

জাগো নিউজ ও দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান মানুর অভিযোগ, সংবাদ সংক্রান্ত বক্তব্য নিতে ফোন করা হলেও বেশিরভাগ সময় তিনি কল রিসিভ করেন না।

দীপ্ত টিভির সিনিয়র প্রতিনিধি মো. ইউনুছ আলী বলেন, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক, কারণ গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা মোটেও কাম্য নয়।

নাগরিক টিভির প্রতিনিধি ফজলুল করিম ফারাজি মন্তব্য করেন, পরপর নারী জেলা প্রশাসক পাওয়ায় কুড়িগ্রামবাসীর ভাগ্য খারাপ বলে তিনি মনে করেন, কারণ তার দাবি অনুযায়ী এতে জনপদটি উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে