×
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ছয় মাসেই দুই দেশের ভিসা সুবিধা হারাল বাংলাদেশিরা

২০২৬ জুলাই ২৮ ১০:০৭:৫৭
ছয় মাসেই দুই দেশের ভিসা সুবিধা হারাল বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ব ও বসবাসবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সর্বশেষ হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের পাসপোর্ট উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ের সূচকের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তিন ধাপ এগিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখনো বিশ্বের অপেক্ষাকৃত দুর্বল পাসপোর্টগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা না নিয়ে ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পান।

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক ভ্রমণক্ষমতা বিশ্লেষণ করে। এর জন্য ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। কোনো দেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা কোনো গন্তব্যে আগে থেকে ভিসা না নিয়ে যেতে পারেন কি না, অথবা সেখানে পৌঁছে ভিসা বা স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন নিতে পারেন কি না—এসব বিষয় সূচকের স্কোর নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সূচকটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (IATA) তথ্য ব্যবহার করে পাসপোর্টগুলোর ভ্রমণসুবিধা মূল্যায়ন করা হয়।

সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা মোট ৩৫টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। এর মধ্যে কিছু দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা রয়েছে, আবার কিছু দেশে পৌঁছানোর পর ভিসা বা অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। ফলে কোনো দেশে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ অভিবাসন ও ভিসা নীতি যাচাই করা জরুরি। কারণ ভিসা নীতি পরিবর্তনশীল এবং হেনলি সূচকের তথ্যও সময়ের সঙ্গে হালনাগাদ হতে পারে।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সহজ প্রবেশের সুযোগ থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি ও মাদাগাস্কারসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল। তবে কোনো গন্তব্যে ভিসা না লাগলেও পাসপোর্টের মেয়াদ, রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ বা অন্যান্য শর্ত থাকতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানে ওঠানামা দেখা গেছে। একসময় বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা ধীরে ধীরে পিছিয়েছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান সূচকের ইতিহাসে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এরপর কয়েক বছর ধরে অবস্থানের কিছুটা উন্নতি হলেও বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণসুবিধার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অবস্থানে নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে ভারত, ভুটান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের অবস্থান এসব দেশের পেছনে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে নেপাল, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের মতো দেশ। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক তুলনায় বাংলাদেশের পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক ভ্রমণসুবিধা এখনো সীমিত।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। এর পরের সারিতে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির কয়েকটি দেশ। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য বিশ্বের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ৯৭তম হলেও এটিকে সরাসরি ভ্রমণসুবিধার বড় ধরনের উন্নতি হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। কারণ র‍্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান কিছুটা উন্নত হলেও মোট ভিসামুক্ত বা আগাম ভিসা ছাড়া প্রবেশযোগ্য গন্তব্যের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনেক গন্তব্যের জন্য আগাম ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি শুধু র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর করে না; বরং অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, অভিবাসন নীতি এবং পারস্পরিক আস্থার ওপরও ভিসা সুবিধা নির্ভর করে। তাই বাংলাদেশের পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসামুক্ত, ভিসা অন-অ্যারাইভাল ও সহজ ই-ভিসা সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশের পাসপোর্ট সূচকে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা দেখালেও ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা। কারণ ভিসা ও প্রবেশ নীতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে কেপ ভার্দে, মোজাম্বিকসহ কোনো নির্দিষ্ট দেশের ভিসা সুবিধা বাতিল বা পরিবর্তনের খবর প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এবং হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, সর্বশেষ হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম হওয়া গত বছরের তুলনায় কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণসুবিধার দিক থেকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ৩৫টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টগুলোর সঙ্গে ব্যবধান অনেক। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সঙ্গে ভিসা সুবিধা সহজ করা গেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক চলাচল আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থানও শক্তিশালী হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর

উ
প
রে