ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে চাকরি—সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

২০২৬ জুলাই ২২ ১১:১২:২৬
বিকেলে বাবার দাফন, রাতে চাকরি—সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিকেলে বাবার দাফন শেষ করেছেন। রাতেই ফিরতে হয়েছে কর্মস্থলে। আর পরদিন সকালে বসতে হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। শোক আর দায়িত্বের এমন কঠিন সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন।

ইকন বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার ছোট ছেলে। বাবাকে হারানোর শোক সামলানোর পাশাপাশি তাকে এখন নিতে হচ্ছে পরিবারের দায়িত্ব, চাকরি এবং নিজের পড়াশোনার চাপ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী ইসরাফিল দাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয় ইসরাফিল দাড়িয়াকে।

পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে। বড় ছেলে ইমনও একসময় বাবার সঙ্গে কাজ করতেন। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে পরিবারের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।

ইকন চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচ চালাতে শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি টাকা উত্তোলন কেন্দ্রের রাতের পালায় খণ্ডকালীন চাকরি করেন।

বাবার দাফন শেষে মঙ্গলবার রাতেই তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। রাত ১০টার দিকেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অথচ পরদিন ২৩ জুলাই সকালে তার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা ছিল।

বাবাকে হারানোর কষ্ট, বড় ভাইয়ের অসুস্থতা, পরিবারের দায়িত্ব এবং নিজের ভবিষ্যৎ—সবকিছু একসঙ্গে সামলে কঠিন সময় পার করছেন ইকন।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও তার দায়িত্ববোধ, পরিশ্রম এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইকন ও তার পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এলাকাবাসী।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে